রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারটি মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে মরদেহগুলো নগরীর দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরপর চারটি চিতায় চারজনের মরদেহ তোলা হয় এবং স্বজনরাই মুখে আগুন (মুখাগ্নি) দেন। দাহকাজ শেষে চিতায় জল দিয়ে চারজনের ‘অস্থি’ সংগ্রহ করে নিয়ে যান স্বজনরা।
এর আগে, শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে তারা এই জবানবন্দি দেন।
রংপুর মহানগর আদালতের ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, সন্ধ্যা ৬টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চক্রবর্তী আসামিদের বিচারকের কাছে উপস্থাপন করেন। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এই আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারক তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, জবানবন্দিতে তারা খুনের দায় স্বীকার করে নৃশংস ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বিবরণ তুলে ধরেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে বসে মাদক সেবন করছিল অভিযুক্ত দুই যুবক মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এ ঘটনায় শিক্ষক বাধা দিলে তাকে তার গলার গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড যাতে জানাজানি না হয় এবং অপরাধীরা চিহ্নিত না হন, সেজন্য একে একে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও খুন করে তারা।
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে আসার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে পৌঁছানোর পর দুই খুনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকেও হত্যা করে।
স্ত্রীর চিৎকার শুনে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে এবং রশি দিয়ে গলা ও মুখ শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরার কারণে তার চোয়াল ভেঙে ও চোখ বের হয়ে আসে।
এরপর নিচতলায় নেমে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আয়ুশ চক্রবর্তীকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
সময়ের আলো/জোই