কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে সিম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও টাকা দেওয়ার পরও তারা ভাতার টাকা বা কোনো কার্ড পাননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাদের নামেই সরকারি ভাতা চালু রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের নামে চালু হওয়া ভাতার টাকা কারা উত্তোলন করেছেন, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ১২ আগস্ট প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় এবং অবিবাহিত নারীদের বিধবা ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের কেউ ভাতা গ্রহণ না করলেও তাদের নামে প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা চালু থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধিতা যাচাই এবং সুবর্ণ নাগরিক কার্ড গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এরপরও তাদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু হওয়ায় অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু রায়গঞ্জ ইউনিয়ন নয়, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও সুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে কথা বলে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম ও আব্দুস ছামাদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাসনাবাদ ইউনিয়নের আনিসুর রহমানসহ কয়েকজন প্রতিবন্ধী না হয়েও অর্থের বিনিময়ে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিয়ে ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, এসব অনিয়মের সময় নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে জামাল হোসেন দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর দায়িত্বকালীন ভাতা কার্যক্রম তদন্তের আওতায় আনা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা হযরত আলী রকি পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এসএকে