বরিশালের গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ভর্তি কার্যক্রম, আবাসিক কক্ষ ব্যবহার, বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ, খাবার সরবরাহ, প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা ও দায়িত্ব বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন ও অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের যোগসাজশে এসব অনিয়ম চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ না করেই টিটিসির ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষ আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কেন্দ্রের ভেতরে বসবাস করলেও নিয়মিত বাড়িভাড়া ভাতা নিচ্ছেন। তবে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন বলেন, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে থাকছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, টিটিসিতে অনলাইনে সরাসরি ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তাঁদের কেন্দ্রের সামনে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার দোকানে পাঠানো হয়। সেখানে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভর্তি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। দোকানের মালিক মো. আমিন খান বলেন, ছেলেদের ভর্তি করতে ৬৫০ টাকা এবং নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়।
নারীদের প্রশিক্ষণ নিয়েও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিন বলেন, কেন্দ্রে নারীদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তবে অধ্যক্ষ জানান, হাউসকিপিং ছাড়া চালু থাকা অন্যান্য প্রশিক্ষণেও নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
টিটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রান্না করা খাবার কেন্দ্রের বাইরে সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জামিলা বেগম নামের এক নারী প্রতিদিন তিন বেলা খাবার নিয়ে কেন্দ্রের সামনের সুজন ফকিরের দোকানে পৌঁছে দেন। দোকান মালিকের দাবি, ওই খাবার আল-আমিনের ভাই আমিন খান মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে খান। তবে অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি আগে নিষেধ করা হয়েছিল; এরপরও খাবার সরবরাহের ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। টিটিসির পঞ্চম ব্যাচের লিমন ফকিরসহ কয়েকজন জানান, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পরও তাঁরা বরাদ্দ করা ভাতার টাকা পাননি। ভাতার টাকা চাইতে গিয়ে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটিও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সরেজমিনে টিটিসির ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, এতে সরকারের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
এ ছাড়া টিটিসিতে কর্মরত না থাকা জামিলা বেগমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবি থাকা এবং তাঁকে একটি কক্ষে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জামিলা বলেন, অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে থাকছেন। অধ্যক্ষের ভাষ্য, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর চাকরি নেই। তবে মানবিক কারণে তাঁকে সেখানে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জামিলা বেগমের সঙ্গে আল-আমিনের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও উঠেছে। দুজনই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, এসব বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
সময়ের আলো/এসএকে