গাজা উপত্যকা থেকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন ওড়ানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হামাসকে সতর্ক করেছে ইসরায়েল। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে গাজায় হামলা আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে গাজার সীমান্তবর্তী একটি ইসরায়েলি এলাকায় কয়েকটি ঘুড়ি পাওয়া যায়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, এই ঘটনা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুদ্ধের আগে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন ইসরায়েলের দিকে পাঠানো হয়েছিল। এসবের কারণে ইসরায়েলে বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া ঘুড়িগুলোর সঙ্গে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু ছিল না। হামাসও এসব ঘুড়ি ওড়ানোর দায় অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, এগুলো ছিল ‘ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করা শিশুদের ঘুড়ি।’
হামাস আরও অভিযোগ করেছে, গত বছরের অক্টোবরে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রাখার জন্য ঘুড়ির ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার গাজা সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত কিবুতজ নাহাল ওজ এলাকায় চারটি ঘুড়ি পাওয়া যায়। গত সপ্তাহে দক্ষিণ ইসরায়েলের আরও কয়েকটি স্থানেও বেশ কিছু ঘুড়ি পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘুড়িগুলোর পেছনে হামাসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তারা ধারণা করছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এসব ঘুড়ির মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘুড়িগুলোর সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি এবং এগুলো কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করেনি।
তারপরও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এ বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতার’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেলুনকে ঘুড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাতে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক।
নাহাল ওজের বাসিন্দারাও ঘুড়ি ও বেলুনের মাধ্যমে আগুন লাগানোর পুরোনো ঘটনা ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে হামাস ইসরায়েলের হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, এসব অভিযোগ ও হুমকির বিপজ্জনক দিক রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ঘুড়িগুলো মূলত বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে থাকা শিশুদের খেলনা।
হামাসের এক মুখপাত্র বলেন, এসব হুমকি ‘মনগড়া অজুহাতের’ ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা ও লঙ্ঘন অব্যাহত রাখার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলাও অব্যাহত রয়েছে। রোববার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবির ও আল জাওয়াইদা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর দুটি হামলায় দুইজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আল জাওয়াইদায় একটি ভবনে বোমা হামলায় মোহাম্মদ তাহা নামে চার বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় হামাসের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রের কমান্ডার ইসমাইল আবু ফুলকে হত্যা করা হয়েছে। হামলার আগে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
কাছাকাছি আশ্রয় নেওয়া আবু আহমেদ নামে এক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, কিছুই নেই। আমরা সমাধান চাই, আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই।
সোমবার ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে একটি তাঁবুতে রাতের হামলায় মোহাম্মদ আবু আসাদ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, আবু আসাদ হামাসের সামরিক শাখার অভিজাত নুখবা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয় বলে ইসরায়েলি তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৪২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ