এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। আগের ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ আদালতে বাতিল হওয়ার কয়েক মাস পর নতুন করে এই প্রস্তাব দেওয়া হলো।
সোমবার প্রকাশিত একটি প্রস্তাবিত বিধিমালায় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয় মেটাতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগ ও তাদের বেশি বেতন দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করাও এই ফি আরোপের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি কার্যকর হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে বিধিমালাটি। প্রস্তাবের বিষয়ে জনসাধারণকে মতামত দেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে বিদেশি দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত বিভিন্ন পেশায় কাজের সুযোগ পান। আবেদনকারীদের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হয়। ভিসাটি সাধারণত তিন বছরের জন্য দেওয়া হয় এবং পরে আরও তিন বছর নবায়ন করা যায়।
বর্তমান আইনে বছরে ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা সংরক্ষিত থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কর্মসূচিটির অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে এবং এর কারণে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ কমছে।
নতুন প্রস্তাবিত ফি নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রয়োজন হলে তাদের উচিত মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া।
এইচ-১বি ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করেছিলেন। এর আগে এই ফি ছিল প্রায় ৩ হাজার ডলার।
তবে চলতি বছরের জুনে মার্কিন জেলা জজ লিও সরোকিন ওই ফি বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ফি আরোপের সাংবিধানিক বা অর্পিত ক্ষমতা ছিল না এবং ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে এমন পরিবর্তন আনার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ