হাইতিতে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের দক্ষিণে কেনসকফের একটি কৃষিপ্রধান এলাকায় শক্তিশালী গ্যাং জোটের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, রোববার রাতে সশস্ত্র গ্যাং সদস্যরা ওই এলাকায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাসিন্দাদের হত্যা করে। কেনসকফের মেয়র জ্যাঁ মাসিয়োঁ বলেন, হামলাকারীরা একটি গির্জা ও বেশ কয়েকটি বাড়িও লক্ষ্যবস্তু করে। নিহতদের মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ উইলিয়াম পাপের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানান তিনি।
মেয়র এ হামলার জন্য ‘ভিভ আনসাম’ গ্যাং জোটকে দায়ী করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র গত বছর সংগঠনটিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে বলে ধারণা করা হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেনসকফ এলাকাটিও গ্যাংগুলোর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এলাকাটি পেতিওন-ভিলের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর অবস্থিত। সেখানে বেশ কয়েকটি দূতাবাস, বিলাসবহুল হোটেল এবং সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে।
গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি বাহিনীকে হাইতির পুলিশকে সহায়তা ও আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত ৫ হাজার ৫০০ সদস্যের পূর্ণ সক্ষমতায় এখনো পৌঁছাতে পারেনি বাহিনীটি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাং সহিংসতার কারণে হাইতিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটিতে গ্যাং সহিংসতায় ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার হাইতির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘জঘন্য হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য ভোটার নিবন্ধনও শুরু হয়েছে। তবে দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সময়ের আলো/কেএইচ