সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা হলে তুরস্ককে সব ধরনের সক্ষমতা দিয়ে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গ্রিস। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিওর্গোস জেরাপেট্রিটিস বলেছেন, গ্রিস এখন আর নিষ্ক্রিয় কূটনীতির যুগে নেই।
সোমবার গ্রিক টেলিভিশন চ্যানেল ওপেন টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তুরস্ক এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে, যা গ্রিসের সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘন করে বলে এথেন্স মনে করে, তাহলে মাঠপর্যায়ে জবাব দিতে প্রস্তুত গ্রিস।
তুরস্কের প্রস্তাবিত ‘মেরিটাইম পার্ক’কে অবৈধ ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন জেরাপেট্রিটিস। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রিস পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সঙ্গে শান্তি চাইলেও তা শক্ত অবস্থান থেকেই চায় তার দেশ।
তুরস্ক ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ পাঠালে গ্রিস কী করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের পদক্ষেপের জবাব দেওয়া থেকে গ্রিস বিরত থাকবে না। প্রয়োজনে একাধিক বিকল্প তাদের হাতে রয়েছে।
গ্রিসের সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে জেরাপেট্রিটিস বলেন, দেশটি প্রয়োজন হলে ফ্রিগেট ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারে। আগামী বছর থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও গ্রিসের সামরিক সক্ষমতার অংশ হবে বলে জানান তিনি।
তিনি গ্রিসের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে রাফাল যুদ্ধবিমান, আধুনিকায়ন করা এফ-১৬, বেলহারা শ্রেণির ফ্রিগেট এবং ভবিষ্যতে যুক্ত হতে যাওয়া এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন।
গ্রিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইপ্রাস এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময়ও গ্রিস তার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তার ভাষায়, ‘আমরা শান্তি চাই। তবে শক্ত অবস্থান থেকে, নিরাপত্তার সঙ্গে এবং কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই।’
এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে গ্রিসের সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেরাপেট্রিটিস। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা গ্রিসের পররাষ্ট্রনীতিতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া নয়; বরং আরব বিশ্বের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির অংশ।
গ্রিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে দুই দেশের যৌথ বিমান মহড়াকেও তুরস্কের প্রতি একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং উত্তর সাইপ্রাসে ইসরায়েলি হামলার সম্ভাবনা নিয়ে গ্রিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পক্ষে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/কেএইচ