ইরানের অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎসগুলো বন্ধ করে দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নতুন অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই অভিযানকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অভিহিত করেছেন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের তেলসহ সব ধরনের রাজস্বের উৎসে নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে।
বেসেন্ট বলেন, ‘এই স্বৈরাচারী শাসনকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য, যতক্ষণ না তেহরান একা হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে লেনদেন ও বাণিজ্যে যুক্ত থাকা কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। ইরানের তেলকে অর্থে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় যারা সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন এই অভিযানের আওতায় ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন— ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিভিন্ন দেশের ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
তবে এখনই ইরানের বড় কোনো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পর্ক ছিন্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যেই নতুন অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা এলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পুরোনো কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নতুন কোনো বিষয় নয়।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তার ভাষায়, এই চাপের মুখে তেহরানের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
তবে ইরানকে লক্ষ্য করে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
সময়ের আলো/কেএইচ