নাটোরে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর, নেতাকর্মীসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার

নাটোর প্রতিনিধি

সারাদেশ

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের

2026-08-25T15:26:52+00:00
2026-08-25T15:29:48+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
নাটোরে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর, নেতাকর্মীসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম  আপডেট: ২৫.০৮.২০২৬ ৩:২৯ পিএম
নাটোরে ইউএনও কার্যালয় ভাঙচুর করা বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি : সময়ের আলো
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে সরকারদলীয় ২৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলী স্ব স্ব থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে লালপুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জন এবং বাগাতিপাড়ার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লালপুরের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। একপর্যায়ে ৪০ থেকে ৫০ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় ইউএনও, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেন এবং কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লাথি দিয়ে এলোমেলো করে ফেলেন। ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়। পরে তারা নিজেরাই সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলেন।


অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন ইউএনওকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তাকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে চাইলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন। পরে বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে আবারও জড়ো হন।

অন্যদিকে, বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট সকালে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে প্রায় শতাধিক লোক উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান এবং ইউএনওর বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধরা ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা কয়েকটি ফুলের টব ও একটি স্টিলের গেট ভাঙচুর করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের ছুঁড়ে মারা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় উপজেলা ভূমি অফিসের একজন কর্মচারী ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিক্ষুব্ধরা তাকে মারধর করে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন । বিক্ষুব্ধদের কয়েকজনকে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে, তারা সেখানে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ইউএনওর টেবিলে আঘাত করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ডের প্রকাশিত ফলাফলে যেসব রোল নম্বর নিয়ে আপত্তি রয়েছে, সেসবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে দিতে বলা হলেও বিক্ষুব্ধরা তা না করে পুরো ফলাফল বাতিলের দাবিতে চাপ প্রয়োগ করেন। ইউএনও তাদের দাবির আইনি ভিত্তি বোঝানোর চেষ্টা করলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং পরের দিন আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটাবে বলে হুমকি দেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   নাটোর  ইউএনও  ভাঙচুর  এজাহার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: