আমাদের শরীরের ভেতর এক বিশাল জগৎ রয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ মূলত আমাদের পেটে বা পরিপাকতন্ত্রে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিস বলেছিলেন, ‘সব রোগের উৎপত্তি অন্ত্র বা পেট থেকে।’ আমাদের এই পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ ও সচল রাখার পেছনের কাজ করে কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া যাদের আমরা প্রোবায়োটিক বলি। ফিট ও প্রাণবন্ত থাকতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন।
প্রোবায়োটিক হলো কিছু জীবিত অণুজীব (প্রধানত ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট) যা আমাদের শরীরের জন্য- বিশেষ করে পরিপাকতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। যখন কোনো কারণে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়, তখনই শরীরে নানা রোগবালাই বাসা বাঁধে। প্রোবায়োটিক মূলত শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখে।
প্রোবায়োটিক খাবারের প্রয়োজনীয়তা
বদহজম, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন না- এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে খাবার দ্রুত ও সঠিকভাবে হজম করতে সাহায্য করে। এটি ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম বা ক্রনিক ডায়রিয়ার মতো জটিল সমস্যা উপশমে দারুণ কার্যকর। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশই নির্ভর করে অন্ত্রের সুস্থতার ওপর। প্রোবায়োটিক শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায় এবং ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্ত্রকে বলা হয় মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। কারণ অন্ত্র এবং মস্তিষ্কের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোবায়োটিক মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। পেট পরিষ্কার ও সুস্থ থাকলে মনও সতেজ থাকে।
অসুখ হলে আমরা অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাই। অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মারার পাশাপাশি আমাদের অজান্তেই পেটের অনেক ভালো ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে ফেলে। যার ফলে ওষুধ খাওয়ার পর পেট খারাপ বা দুর্বলতা দেখা দেয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের পর প্রোবায়োটিক খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পুষ্টিবিদ হৈমন্তী সরকার বলেন, প্রোবায়োটিক হলো এমন কিছু উপকারী জীবন্ত অণুজীব, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টক দই, ঘোল, কিছু ফারমেন্টেড খাবার ইত্যাদি পরিমিতভাবে রাখা যেতে পারে। তবে শুধু প্রোবায়োটিক খেলেই হজমের সব সমস্যা দূর হবে এমন ধারণা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, পানি এবং সুষম খাদ্যও অন্ত্রের সুস্থতার জন্য জরুরি। যাদের দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবার নির্বাচন করবেন।
সময়ের আলো/এসএকে