ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে সতেজতা

হেলেনা পারভীন

ফিচার

ভাদ্র মাস মানেই এক অন্যরকম তীব্র ও ভ্যাপসা গরম। এ সময়ে রোদের তাপের চেয়েও বেশি কষ্ট দেয় বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা।

2026-08-25T23:00:58+00:00
2026-08-25T23:00:58+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে সতেজতা
হেলেনা পারভীন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ভাদ্র মাস মানেই এক অন্যরকম তীব্র ও ভ্যাপসা গরম। এ সময়ে রোদের তাপের চেয়েও বেশি কষ্ট দেয় বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা। একটুতেই শরীর ঘেমে চিটচিটে হয়ে ওঠে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বক, চুল ও হাত-পায়ে। ঘাম বসে যাওয়া, ফুসকুড়ি, অ্যালার্জি, ব্রণের আধিক্য, স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন কিংবা ঘামাচির মতো হরেক রকমের অস্বস্তিকর সমস্যায় নাজেহাল হতে হয় প্রায় সবাইকে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সামান্য অসাবধানতা বড় কোনো চর্মরোগের কারণ হতে পারে। তাই ভাদ্রের এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুস্থ ও সতেজ থাকতে প্রয়োজন বাড়তি নজরদারি ও সঠিক পরিচর্যা। 

ভাদ্রের কড়া রোদ ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত ঘাম ও তেলের কারণে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডসের উপদ্রব বাড়ে। তাই এ সময়ে ত্বক পরিষ্কার রাখার কোনো বিকল্প নেই। দিনে অন্তত দু-তিনবার মৃদু ও অয়েল-ফ্রি ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উচিত। 

বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি, যা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। ঘামাচি বা চুলকানির ভাব দূর করতে গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা নিমের রস বা অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা ত্বকে প্রশান্তি আনে।

ত্বকের পাশাপাশি মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পও ভাদ্রের গরমে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘেমে গিয়ে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়, ফলে চুল পড়ার হার অনেকটাই বেড়ে যায়। এ ছাড়া আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে স্ক্যাল্পে খুশকি ও ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে। এ থেকে বাঁচতে সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ও স্ক্যাল্প ভালোভাবে পরিষ্কার করা দরকার। 

স্ক্যাল্প ঠান্ডা রাখতে এবং অতিরিক্ত তেলচিটে ভাব দূর করতে ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। আমরা প্রায়শই হাত ও পায়ের যত্নের বিষয়টি এড়িয়ে যাই, অথচ এই ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ফাঙ্গাল ইনফেকশন সবচেয়ে বেশি হয় হাতের আঙুলের ভাঁজে ও পায়ের নখে। বদ্ধ জুতো পরে থাকার কারণে পায়ে ঘাম জমে দুর্গন্ধ এবং ইনফেকশন তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে সাবান বা ভালো বডি ওয়াশ দিয়ে হাত-পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। 

বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ত্বক অনেক বেশি কোমল ও সংবেদনশীল। শিশুদের সবসময় ঢিলেঢালা, পাতলা ও সুতি কাপড়ের পোশাক পরানো উচিত। কোনো ধরনের সিনথেটিক বা কৃত্রিম সুতার পোশাক এই সময়ে একদমই ছোঁয়ানো যাবে না। শিশু ঘেমে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে সুতি তোয়ালে বা নরম কাপড় দিয়ে ঘাম মুছে দিতে হবে। 

ঘাম ভেজা জামা বেশিক্ষণ গায়ে থাকলে ঠান্ডা লাগার পাশাপাশি ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়। প্রতিদিন নিয়ম করে কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুকে গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে সামান্য নিমের পাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে মেশালে তা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে এবং ঘামাচি প্রতিরোধ করে। শিশুদের ত্বকে এই সময়ে অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   ভাদ্র  ভ্যাপসা গরম  সতেজতা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: