গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি গত সোমবার নতুন সরকারের ৬ মাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেছিল দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস পার হলেও দেশের অর্থনীতি কাক্সিক্ষত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বরং অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সামষ্টিক সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই অবনতি হয়েছে। মাত্র ১২টি সূচকে অগ্রগতি দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে সময়ের আলোকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতির সূচকগুলো অনেক আগে থেকেই নিম্নমুখী। আমরা একটা সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি। আগের পতিত সরকার দেশকে একেবারে ফোকলা করে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো করার। আশা করছি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি। মঙ্গলবার বিদেশ সফরে যাওয়ার আগ দিয়ে সময়ের আলোকে এ কথা বলেন তিনি।
সিপিডি তাদের মূল্যায়নে আরও বলেছে, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, শিল্প উৎপাদনে স্থবিরতা, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া, কর্মসংস্থান হ্রাস এবং বাণিজ্য ও চলতি হিসাবের ভারসাম্যে অবনতি অর্থনীতির দুর্বল চিত্রই তুলে ধরছে। তবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমা, রফতানি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার মতো কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তনও রয়েছে।
সিপিডির পর্যালোচনায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে রাজস্ব আদায়। চলতি অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘাটতি সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। একই সময়ে এনবিআরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ১ শতাংশ এবং মোট কর রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে নেমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
রাজস্ব সংকটের পাশাপাশি সরকারের ব্যাংকনির্ভরতাও বেড়েছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে নিট বৈদেশিক সহায়তা ৭৭১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৭৩৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি