ইসলামী ব্যাংকের ১৪১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের জুবলী রোড শাখা থেকে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং

2026-08-26T02:20:03+00:00
2026-08-26T02:20:03+00:00
 
  বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
অর্থনীতি
ইসলামী ব্যাংকের ১৪১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:২০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের জুবলী রোড শাখা থেকে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং দুবাই, যুক্তরাজ্য ও আমেরিকায় পাচারের অভিযোগে তিনটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই ৩ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ মামলাগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই চট্টগ্রামের দুদক কার্যালয়ে মামলা দায়ের করা হবে বলে সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। 

অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের টাস্কফোর্স টিম সাইফুজ্জামান ইস্যুতে কাজ করছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে। টিম ইতিমধ্যে ৩০টি মামলা দায়ের করেছে।

মামলাগুলোর মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টরা পরস্পরের যোগসাজশে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নাম সর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠান ইমিন্যান্ট ট্রেডার্সের নামে ২০ কোটি টাকা, ভিশন ট্রেডিং কর্তৃক ২৫ কোটি টাকা, রিলায়েবল ট্রেডিংয়ের নামে ১৫ কোটি; প্রোগ্রেসিভ ট্রেডিংয়ের নামে ২৩ কোটি, ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের নামে ২৫ কোটি টাকা ও মডেল ট্রেডিংয়ের নামে ২১ কোটি টাকাসহ মোট ১২৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৬টি মামলা দায়ের করে দুদক। 

মামলাগুলোতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানকে আসামি করা হয়েছে। যার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। 


অনুরূপভাবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন লিমিটেডের থেকে ৫২ কোটি টাকা, আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক এইচ এম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে ৫৫ কোটি টাকা, জুবিলী রোড শাখার গ্রাহক ওয়েল মার্ট লিমিটেডের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা, মহাখালী শাখার গ্রাহক সাইফ পাওয়ারটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসির কাছ থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ইউসিবিএল ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার গ্রাহক আইকনএক্স সার্ভিস লিমিটেডের কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকাসহ মোট ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মামলা রুজু করা হয়। 

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান ওই সব মামলার আসামি। চকবাজার, পোর্ট, পাহাড়তলী ও বহদ্দারহাট শাখা হতে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে ৪টি মামলা, ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ৮টি মামলা এবং ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৭ মামলা রুজু করা হয়।

এসব মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আর এক ভাই সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী ওরফে রনি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, সাবেক পরিচালক এম এ সবুর, হাজী ইউনুছ আহমদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   ইসলামী ব্যাংক  ১৪১ কোটি  আত্মসাত  অভিযোগ 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: