দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের পতন ঘটেছে। এ নিয়ে শেষ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ দিনই বাজারে সূচক কমল। সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও তলানিতে ঠেকেছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।দিনের লেনদেনের শুরুটা বেশ ইতিবাচক ছিল।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৭ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়ে এবং প্রথম আড়াই ঘণ্টা এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকে। তবে শেষ আধা ঘণ্টায় বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতনের চাপে শেষ পর্যন্ত ঋণাত্মক ধারায় বন্ধ হয় বাজার। দিনশেষে ডিএসইতে ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৫২টির দর কমেছে এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ন্যূনতম ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯২টির দর বেড়েছে ও ৮২টির কমেছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩২টির। এ ছাড়া লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৪৭টি কোম্পানির দর বেড়েছে এবং ৩৮টির দাম কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১২টির দর বৃদ্ধি ও ৮টির দরপতন ঘটেছে।
দরবৃদ্ধির সংখ্যা বেশি থাকা সত্ত্বেও ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৪০ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এ ছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২৬ পয়েন্টে নেমেছে, তবে শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে মোট ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার তুলনায় ৯৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম। এর আগে চলতি বছরের ৬ এপ্রিলে সর্বনিম্ন ৪৭০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল।
মঙ্গলবার ডিএসইর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সায়হাম টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, রানার অটোমোবাইল, এমএল ডাইং, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো, লাভেলো আইসক্রিম এবং ফার কেমিক্যাল।
অন্যদিকে সিএসইতে দরপতনের চিত্রটি ছিল আরও স্পষ্ট। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪৯টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১১৯টির দর কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৯৩ পয়েন্ট হ্রাস পায়। দিনশেষে সিএসইতে মোট ৪ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়, যা আগের দিনের ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি