জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি

2026-08-27T09:36:23+00:00
2026-08-27T09:40:21+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬,
১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম  আপডেট: ২৭.০৮.২০২৬ ৯:৪০ এএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
দ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা।

মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নজরুলের কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সৃষ্টিকর্মে একদিকে যেমন বিদ্রোহ ও মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে প্রেম, সাম্য ও মানবতার জয়গান।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। দারিদ্র্য তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং কবিতা, গান, গজল, হামদ-নাত, নাটক ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের নানা শাখায় রেখে গেছেন অনন্য সৃষ্টি।

নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবনের সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই স্বল্প সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী রচনা। তাঁর কবিতা ও গান মানুষের মনে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছে এবং শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে।

কবি নিজেই তার সৃষ্টিশীলতার দুই দিক তুলে ধরে লিখেছেন— ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে সপরিবারে নজরুলকে বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করে ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

বিভিন্ন কর্মসূচি

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শোভাযাত্রা, কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও আলোচনা সভা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন।

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আজ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুদিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘আমারে দেবো না ভুলিতে...’ শীর্ষক এ আয়োজনে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হবে।

এ ছাড়া নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে। আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বাদ জোহর সমাধিসংলগ্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল। আগামীকাল ও ২৯ আগস্ট মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম  মৃত্যুবার্ষিকী 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: