প্রতিরক্ষা শিল্পে সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর

2026-08-27T20:10:16+00:00
2026-08-27T20:10:16+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
প্রতিরক্ষা শিল্পে সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১০ পিএম 
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সহ অনেকে। ছবি : সময়ের আলো
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী করে তোলার মাধ্যমে এর রফতানির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির (বিওএফ) সম্প্রসারণের ফলে দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিল মিলনায়তনে আয়োজিত এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বর্তমান বিশ্বের প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত দুই-তিন দশক ধরে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে একটি দেশের সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তারই বড় উদাহরণ।


তিনি আরও বলেন, ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এখন যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি বদলে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম মজুত রাখার প্রচলিত ধারণাতেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনমুখী করতে হবে। প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তির উৎপাদনে অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্যও এক্ষেত্রে বড় সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণকে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রফতানি সম্ভাবনাও রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা পণ্য রফতানির সুযোগ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির সাফল্য শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন নয়, বরং এর মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তিগত ও শিল্প সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, দেশের বন্ধ থাকা শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে শিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেগুলোকে নতুনভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আজ যে জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হলো, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হবে। অবস্থানগত ও কৌশলগত দিক থেকে জলিল টেক্সটাইল মিলসের এই জমি বিওএফ-এর সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে বিটিএমসির পক্ষে সংস্থার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসার মিসেস সাজিয়ে তাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   প্রতিরক্ষা  শিল্প  সক্ষমতা বৃদ্ধি  বাণিজ্যমন্ত্রী  খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: