সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার চরম লঙ্ঘন এবং আর্থিক অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি (পিলার) স্থাপন ও স্থানান্তরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর যশোর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ (নড়াইল)-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হাওলাদার মো. রুহুল আমিনের দিকে।
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে দুটি স্থানে অবৈধভাবে দুটি খুঁটি স্থাপন এবং অন্য একটি স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটি সরিয়ে ফেলার এই ঘটনায় নড়াইল জুড়ে তীব্র জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে এবং পাইকবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ববিতা বেগমের বসতবাড়িতে সরকারি নিয়ম অমান্য করে দুটি নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে আগ্রাহাটি এলাকা থেকে একটি পুরনো বৈদ্যুতিক খুঁটি সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ও বেআইনিভাবে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, কোনো ধরনের বৈধ দাফতরিক অনুমোদন, নিরাপত্তা সমীক্ষা কিংবা নকশা ছাড়পত্র ছাড়াই এসব খুঁটি স্থাপন করা হয়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সরাসরি দাবি, এই সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়ার মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন ডিজিএম হাওলাদার মো. রুহুল আমিন। তার প্রত্যক্ষ মদদে এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয়দানকারী পাইকবাড়ী গ্রামের বাশার কাজী নামক এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। একটি প্রভাবশালী চক্রের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে দ্রুততম সময়ে এই খুটিগুলো বসানো ও স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় যশোর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ (নড়াইল)-এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আনন্দ কুমার পাল সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। তদন্ত শেষে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিক তদন্তে নিয়মবহির্ভূত খুঁটি স্থাপন ও স্থানান্তরের সুস্পষ্ট অনিয়ম ও প্রমাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমি ইতোমধ্যই তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছি। প্রশাসনিক বিধিমালা ও আইন অনুযায়ী শিগগিরই পরবর্তীতে দাফতরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে আনীত সমস্ত অভিযোগ ও অনৈতিক লেনদেনের দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মূল অভিযুক্ত ডিজিএম হাওলাদার মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বাশার কাজী আমার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে তার বাড়িতে আমার যাতায়াত থাকতে পারে, তবে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধার সঙ্গে আমি জড়িত নই। যেসব স্থানে অবৈধভাবে দুটি খুঁটি বসানো হয়েছে, সেগুলো দ্রুততম সময়ে উচ্ছেদ ও অপাসারণ করা হবে। এ ছাড়া আগ্রাহাটিতে অবৈধভাবে খুঁটি স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে নিয়মিত আইনানুগ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে ডিজিএম রুহুল আমিনের এমন বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড জনসম্মুখে উন্মোচিত হওয়ার পর ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসানো খুঁটিগুলো উচ্ছেদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, কোনো লোকদেখানো বা পাতানো তদন্ত নয় বরং সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ ও উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত মূল হোতা ডিজিএমসহ সিন্ডিকেটের সবার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই