‘সবাই মারা গেছে’— নেপালে ধ্বংসস্তূপে মানুষের আহাজারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালে হিমবাহধসের পর আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক হাজার

2026-08-28T20:48:52+00:00
2026-08-28T20:49:11+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘সবাই মারা গেছে’— নেপালে ধ্বংসস্তূপে মানুষের আহাজারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম  আপডেট: ২৮.০৮.২০২৬ ৮:৪৯ পিএম
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
নেপালে হিমবাহধসের পর আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাসুওয়া জেলায় বাড়ি ফেরার পথে ৫৬ বছর বয়সী ভূপেন থাপা বিকট গর্জন শুনতে পান। মুহূর্তের মধ্যে বাদামি পানি, বালু, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত গ্রামটিকে ভাসিয়ে নেয়। চোখের সামনেই হারিয়ে যায় তার বাড়ি, পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রাম থেকে ভূপেনকে উদ্ধার করে ধুনচের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যান। তিনি জানান, ঘটনার সময় তার বাবা ও স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন। কাদার স্রোত আসতে দেখে তিনি বিপরীত দিকে দৌড়ে প্রাণে বাঁচেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভূপেন বলেন, ‘সবাই মারা গেছে। এমন দুর্যোগ থেকে কেউ বাঁচতে পারে না। আমি সবকিছু হারিয়েছি। কাউকে বাঁচাতে না পারার অপরাধবোধ আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’


শুক্রবার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে দুর্গত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেন। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিতদের উদ্ধারের আশা ততই কমছে।

নুওয়াকোট জেলার বিদুর শহরেও ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মারা গেছে। কার্কি নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমাদের দিকে সুনামি এগিয়ে আসছে। প্রথম তলা পর্যন্ত সবকিছু কাদায় ঢেকে গেছে। এই ক্ষতি থেকে আমরা কখনোই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’

কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে ভিড় করছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে ভুটেকোশি নদীতে ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় নতুন বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

দুর্গম এলাকা, বিধ্বস্ত সড়ক ও সেতুর কারণে ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ও ১৯টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।


সময়ের আলো/এমকে
  বিষয়:   নেপাল  ধ্বংসস্তূপ  মানুষ  আহাজারি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: