দেশেই বিকাশ ঘটবে কৃষি রাসায়নিক শিল্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ জারি করেছে। এতে বিভিন্ন খাতের পণ্য আমদানির জন্য নতুন নতুন পন্থা উল্লেখ

2026-08-30T04:28:51+00:00
2026-08-30T04:28:51+00:00
 
  রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
অর্থনীতি
দেশেই বিকাশ ঘটবে কৃষি রাসায়নিক শিল্পের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ জারি করেছে। এতে বিভিন্ন খাতের পণ্য আমদানির জন্য নতুন নতুন পন্থা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে আছে কৃষি-রাসায়নিক পণ্য খাতও। নতুন আদেশে কৃষি-রাসায়নিক বা কৃষি-কীটনাশক উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণ এবং নির্দিষ্ট উৎস বা দেশ থেকে আমদানির বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। 

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি-রাসায়নিকের কাঁচামাল সংগ্রহের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় এ খাতে বাড়বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং দেশেই বিকাশ ঘটবে কৃষি-রাসায়নিক শিল্পের। একই সঙ্গে নতুন এই আদেশের ফলে কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে আগে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নির্ভরতা থাকার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে দেশে কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি-রাসায়নিকের যে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতো এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত- তা কমবে। 

এদিকে কৃষি কীটনাশক উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণ এবং নির্দিষ্ট উৎস বা দেশ থেকে আমদানির বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়াকে সময়োপযোগী ও কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা)। 

সংগঠনটির সভাপতি ও কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত কৃষি খাত ও কৃষকের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, রাসায়নিক পণ্য উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে আগের জটিল নীতিমালা ও নির্দিষ্ট দেশ বা উৎস থেকে আমদানির বাধ্যবাধকতার কারণে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাড়তি খরচ বহন করতে হতো। নতুন নীতিমালার ফলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মানসম্মত কৃষি-রাসায়নিক ও কাঁচামাল আমদানি করা সহজ হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে বাধ্যবাধকতা না থাকায় আমদানিকারকরা এখন গুণগত মান বজায় রেখে সুবিধাজনক যেকোনো দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে সরাসরি উপকৃত হবেন দেশের কৃষকরা, কারণ বাজারে কৃষি-রাসায়নিক উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সংগঠনটির মতে, সরকারের এ সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের কৃষিখাত ও কৃষিভিত্তিক শিল্প উভয়ের জন্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আগে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নির্ভরতা থাকার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে দেশে কীটনাশক ও অন্য কৃষি-রাসায়নিকের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতো এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত।

এ ছাড়া উৎস দেশের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় মুক্তবাজার প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে আমদানিকারকরা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য আনতে পারবেন, যা দিনশেষে মাঠপর্যায়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করবে। জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে কৃষি-রাসায়নিক পণ্যের আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। নতুন নীতিতে উৎপাদনকারীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা সরবরাহকারীর কাছ থেকেই কাঁচামাল সংগ্রহের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উৎপাদনকারীদের জন্য ‘একটি দেশ, একটি উৎস’ পদ্ধতি অনুসরণ করার নিয়ম কার্যকর রেখেছিল। এর ফলে তারা একই দেশের অন্য কোনো সরবরাহকারী কিংবা অন্য কোনো দেশের সরবরাহকারীর কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে কাঁচামাল আমদানি করতে পারতেন না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে যে আমদানি নীতি আদেশ জারি করেছে, তাতে এই বিধিনিষেধ বাতিল করা হয়েছে।


বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ‘বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং বাংলাদেশে ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ প্রসারের অংশ হিসেবে, ৩০(৮) নম্বর ধারার অধীনে কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলো পণ্য আমদানির জন্য নির্দিষ্ট কোনো উৎস বা সরবরাহকারী নির্ধারণ করে দিতে পারবে না। 

আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, নিবন্ধিত বালাইনাশক ও বালাই নিয়ন্ত্রণকারী পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কাঁচামালের একটি তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয় প্রস্তুত ও প্রকাশ করতে পারবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের বালাইনাশক বাজারের আকার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়; এর মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি এবং প্রস্তুতকৃত পণ্য আমদানিকারকরা বাজারের প্রায় ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

এর আগে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রায় ৫৮ শতাংশ করের বোঝা বহন করতে হতো। সর্বশেষ বাজেটে মাত্র ৩৬টি কাঁচামালের ওপর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে অন্যান্য অধিকাংশ কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমিয়ে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। 

উৎপাদনকারীদের অভিযোগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আরোপিত বিধিনিষেধ স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য বাধা সৃষ্টি করেছিল এবং এর ফলে বহুজাতিক কোম্পানি ও প্রস্তুতকৃত পণ্য আমদানিকারকরা লাভবান হচ্ছিল। যদিও ২২টি উৎপাদনকারী কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তবে প্রায় ১,৩৪০টি কোম্পানিকে প্রস্তুতকৃত পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ কমানোর ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন কীটনাশক ও বালাইনাশকের সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কৃষি খাত তৈরি কীটনাশক আমদানির ওপর নির্ভর করায় উৎপাদন ব্যয় বেশি ছিল।
 
কাঁচামাল আমদানির সুযোগ ও উৎস উন্মুক্ত করার নতুন নীতিমালা স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পকে উৎসাহিত করবে। তবে এর সুফল যেন সরাসরি কৃষক পান এবং বাজারের একচেটিয়া প্রভাব কমে আসে তা নিশ্চিত করতে হবে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   কৃষি রাসায়নিক  শিল্প  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: