কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও বিশ্বসেরা ১০০ কনটেইনার বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এবারও ৬৮ তম। গতবারও একই অবস্থানে ছিল। লন্ডনভিত্তিক বন্দর ও শিপিং বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট প্রতিবছর এ তালিকা করে থাকে। সম্প্রতি তালিকায় ১০০ বন্দরের সিরিয়াল করা হয়েছে।
লয়েডস লিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি কম হলেও এপিএম টার্মিনালস, এমএসসি এবং রেড সি গেটওয়ের বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কনটেইনার বন্দরের ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮টি ( প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের)। আগের অর্থবছরে ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউস। ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫১ কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়ায় এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
এবার কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন। আগের বছর ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ টন। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬টি। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫৯টি বেশি। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। কনটেইনার জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ( গড় অবস্থান সময়) ছিল এবার ২ দশমিক ৩৮ দিন। আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ৫৮ দিন। কমার হার ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
লয়েড লিস্টে এবার শীর্ষস্থানে আছে চীনের সাংহাই বন্দর। দ্বিতীয় অবস্থানে সিঙ্গাপুর বন্দর। সপ্তম অবস্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান। নবম অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পোর্ট। দশম অবস্থানে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং। এবারও শীর্ষ দশে বন্দরগুলোর অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। তালিকায় ছয়টি বন্দরই চীনের।
লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২৫ সালে ৩৪ লাখ ৯ হাজার কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭টি। ১ বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তালিকায় ৬৮ তম হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর আগের অবস্থান ধরে রেখেছে। এতেব আমরা খুশি। আমরা চাই তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর আরও এগিয়ে আসবে।
সময়ের আলো/আতা