দীর্ঘ ৮ বছর পর বকশিগঞ্জের মোটরসাইকেল চালক আবু বকর নূরী (৫০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন অপরাধীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার আগুনেরচর গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে জালাল মিয়া (৪২), উসমান শেখের ছেলে নূর ইসলাম (৩২) ও মৃত আছান আলীর ছেলে মোজাম্মেল হক (৪৮)। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের দুইজন আবু বকর নূরী হত্যার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে অন্যজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করলেও আদালতে স্বীকার না করায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলার চুংরাপাড়া এলাকায় ২০১৮ সালের ২ জুলাই ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আবু বকর নূরীকে হত্যা করা হয়েছিল। রোববার (৩০ আগস্ট) সিআইডি’র ফেসবুক পেজে এমন তথ্য জানিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি জামালপুর ইউনিটের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অমিমাংসিত মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সিআইডি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ, ফরেনসিক যাচাই এবং বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে ধারাবাহিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্তে কাজ করছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে ভিকটিম আবু বকর নূরী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ইসলামপুরের চুংরাপাড়া গ্রামের পুবের বন্দ এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে নুরীর স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে শনাক্ত করেন।
তদন্তে জানা যায়, আনুমানিক রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সংঘবদ্ধ চক্রটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতে নুরীকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
সময়ের আলো/জোই