চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বদলির শেষ মুহূর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক গতিতে বিপুলসংখ্যক নামজারি মামলা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যে তিন শতাধিক নামজারি ফাইল অনুমোদন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান গত ১৬ আগস্ট বদলি হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়। এরপর ২৫ আগস্ট ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মাত্র দুই দিন পর ২৭ আগস্ট ছিল সাতকানিয়ায় তার শেষ কর্মদিবস। অভিযোগ রয়েছে, এই সংক্ষিপ্ত সময়ের সুযোগ নিয়ে ২৬ ও ২৭ আগস্ট অফিস সময়ের বাইরে ও গভীর রাতে সরকারি বাসভবনে বসে তিন শতাধিক নামজারি ফাইল অনুমোদন করা হয়েছে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও স্বল্প সময়ে প্রচুর ফাইল অনুমোদনের তথ্য উঠে এসেছে। সদর ভূমি অফিসের তহশিলদার কাজী ইমরুল কায়েস জানান, ওই সময়ে ইউএনও ৬০ থেকে ৭০টি ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন। বাজালিয়া ভূমি অফিসের তহশিলদার মোকাম্মেল হোসেন প্রায় ৩০টি ফাইল অনুমোদনের কথা জানান।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একটি নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যেখানে দীর্ঘ সময় লাগে, সেখানে কাগজপত্র যাচাই ও তদন্ত শেষ না করেই কীভাবে মাত্র দুই দিনে শত শত ফাইল অনুমোদন করা হলো? যদি ফাইলগুলোর সব প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে এতদিন সেগুলো আটকে রাখা হলো কেন এই প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী ও ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এই তড়িঘড়ি অনুমোদনের পেছনে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। উল্টো প্রতিবেদকের পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যাক, তুমিও যে গুজব পার্টির সদস্য, সেটা জানা ছিল না। আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিক। কৃতজ্ঞতা জিনিসটা সম্ভবত তোমার চরিত্রে নেই। এতই যখন ইউএনও অফিস, এসিল্যান্ড অফিস নিয়ে মাথাব্যথা, বিসিএস দিয়ে ক্যাডার হয়ে যাও।
সময়ের আলো/জোই