পঞ্চগড় পৌরসভার টানা পাঁচবারের সাবেক সফল মেয়র, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব তৌহিদুল ইসলাম আর নেই। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, চার কন্যা, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে মরহুম তৌহিদুল ইসলামকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যু পঞ্চগড়বাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের মানুষের সুখে-দুঃখের অকৃত্রিম বন্ধু। এছাড়া জেলা বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
তৌহিদুল ইসলাম ছিলেন পঞ্চগড় রাজনীতির অন্যতম এক দিকপাল। তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র হিসেবে টানা ৫ বার দায়িত্ব পালন করে রেকর্ড গড়েন। এছাড়া তিনি পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংগঠনিক জীবনে তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। পঞ্চগড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক পৌরসভা গঠনে তার অবদান জেলাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ আজ রাত ১২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল (সাবেক পিজি হাসপাতাল এলাকা) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ ঢাকা থেকে নিজ জেলা পঞ্চগড়ে নিয়ে আসা হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা ও দাফন-কাফনের বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
একজন জনবান্ধব ও নিবেদিতপ্রাণ এই অভিভাবককে হারিয়ে পঞ্চগড়বাসী আজ বাকরুদ্ধ। তার মৃত্যুতে জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই