পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের পর অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাসুদ আলী বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলা করেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান। তিনি জানান, সানোয়ার হোসেন (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ আগস্ট টাইয়াগছ এলাকায় শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র ছাড়াই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রাতের অন্ধকারে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কথিত ‘আপোষ’ রফা করা হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কথিত এই আপোষের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত বৃদ্ধ ও মধ্যস্থতাকারীদের বিচারের দাবিতে শনিবার বিকেলে ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে রাস্তায় নামেন গ্রামবাসী। তারা তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের রবীন্দ্র সরণী বাইপাস এলাকায় তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়া অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করতে বাধা দিয়েছেন এবং ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। ভুক্তভোগী শিশুর দাদাও অভিযোগ করেছেন যে, রাজিয়া বেগম বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নিয়ে মামলা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে সুলতানা রাজিয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ ও ওসি লাইছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ইউএনও আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে শতভাগ ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি লাইছুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার আগে থানায় আসেনি বলে আইনি ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়েছে। শনিবার রাতে মামলা হওয়ার পর থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মামলা হওয়ার পর থেকে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
টাইয়াগছ এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মামলা নয়, দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তবে অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেনের পরিবারের দাবি, প্রাতিবেশী একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জেরে বৃদ্ধ সানোয়ারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এই ‘ধর্ষণের নাটক’ সাজানো হয়েছে। তারা প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই