বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের সাবেক সদস্য ড. এম এনামুল হক মারা গেছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে ফজরের সময় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
ড. এম এনামুল হক ছিলেন দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী। বাংলাদেশ পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি আইন কমিশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৯১ সালে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. এম এনামুল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইন ও প্রশাসন বিষয়ে তার আগ্রহ ও জ্ঞান কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ড. এম এনামুল হকের কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে বাংলাদেশ পুলিশে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক পদে নিযুক্ত হন। তার আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ছিল ১৯৯১ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৯৯২ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত।
পুলিশ থেকে অবসরের পরও তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশ দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ড. এম এনামুল হক একটি আত্মজীবনীমূলক বইও লিখেছেন। তার বই ‘আ পোর্ট্রেট ইন রিফ্লেকশনস’–এর মোড়ক উন্মোচন হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের বাংলাদেশ পুলিশ মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে তৎকালীন আইজিপি বাহারুল আলমসহ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বইটিতে তার কর্মজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির কথা উঠে এসেছে।
রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর রাজনীতিতেও সক্রিয় হন ড. এম এনামুল হক। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন।
তার জন্ম রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লাবারুইপাড়ায়। মরহুম ফাহিম উদ্দিন মাস্টার ও আনোয়ারা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান ছিলেন তিনি। স্থানীয়ভাবে তিনি গোদাগাড়ীর একজন কৃতী সন্তান হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
পরিবারে রেখে গেলেন স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। পারিবারিক জীবনে ড. এম এনামুল হকের স্ত্রী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক অনামিকা হক লিলি। তাদের এক মেয়ে অদিতি তিতাস হক এবং দুই ছেলে আশিম শৈতাল হক ও অনীক আর. হক।
তার ছেলে অনীক রুশদ হক আইন পেশায় যুক্ত এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । ড. এম এনামুল হক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ রাতুলের বড় চাচা বলেও বিএনপির মিডিয়া সেলের শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. এম এনামুল হকের মৃত্যুতে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সহকর্মী, স্বজন ও গুণগ্রাহীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির মিডিয়া সেল তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
মরহুমের জানাজা ও দাফনের সময়সূচি এখনো জানানো হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
সময়ের আলো/জোই