রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের ওয়েস্টার্ন জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মহোৎসব চলছে। এতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। গ্রাহকদের মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, আবাসিক সংযোগ বাণিজ্যিক করা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আবাসিক সংযোগ এবং নতুন সংযোগে অতিরিক্ত ফি আদায়ের নানা অভিযোগ উঠেছে।
গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের প্রবাসী আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রেহেনা খাতুন জানান, বাড়িতে বিদ্যুতের বিল হঠাৎ কমে যাওয়ায় তিনি লাইনম্যানদের জানান। কিছুদিন পর বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে কোনো কারণ ছাড়াই তার মিটার খুলে নিয়ে যান এবং তাকে ‘বিদ্যুৎ চোর’ বলে অপমান করেন। পরে ১ লাখ টাকা মামলা ও চুরির ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুস নেওয়া হয়। তবে এর বিপরীতে কোনো রসিদ বা ভাউচার দেওয়া হয়নি।
পূর্ব তেনাপচা গ্রামের আব্দুল জলিল ফকিরের বাড়িতে মিটার পরীক্ষার নামে কোনো ত্রুটি না পেয়েও মিটার বিকলের অজুহাতে মামলার ভয় দেখিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি ১ লাখ টাকা এবং নতুন প্রিপেইড মিটারের জন্য আরও ১০ হাজার টাকা দেন।
গোয়ালন্দ পৌর জামতলা বাজারের হোটেলব ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, বিদ্যুতের কর্মচারীরা তার দোকানে খাওয়ার পর টাকা না দেওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে তার আবাসিক সংযোগটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাণিজ্যিক করে দেওয়া হয়। এতে যেখানে আগে বিল আসত ৬০০-৭০০ টাকা, বর্তমানে তা ৩ হাজার টাকার বেশি আসছে। দীর্ঘদিন ঘুরেও তিনি তা সংশোধন করতে পারেননি।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিসের সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার দূরে ফসলের মাঠ পেরিয়ে একটি মুরগির খামারে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক খামার হওয়া সত্ত্বেও সংযোগটি আবাসিক হিসেবে দেখিয়ে মাস শেষে কম বিল নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকার স্থলে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আইয়ুব আলী খান অভিযোগ করে বলেন, গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিসে সেবার নামে গ্রাহকদের সঙ্গে একধরনের ডাকাতি চলছে। নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষ সহজে সংযোগ পায় না।
অভিযোগের বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, সংযোগ ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের রাজবাড়ী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মামুন-অর-রশিদ এ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
সময়ের আলো/জোই