বরগুনা আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পের ওয়াকওয়ের ড্রপ ওয়াল নির্মাণকাজ চলাকালে ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে এলজিসিআরআরপি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমানের সময় প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ঝালকাঠির ‘ইসলাম ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজপত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রকল্পের কাজ মূলত সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমানের লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হয়ে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে লেকের ওয়াকওয়ের ড্রপ ওয়ালের নির্মাণকাজ চলাকালে একটি অংশ ধসে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে ঠিকাদারের লোকজন ধসে যাওয়া অংশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ধসে পড়া ওয়াকওয়ের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক নাসরিন শিপু, রিমন ও রাসেলের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। ঠিকাদারের ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা ও তাদের সহযোগীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে এ আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বলেন, আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ নেওয়া হয়েছে—এটা সত্য। তবে কাজ করছেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক পৌর মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিয়ার রহমানের মোবইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান ওয়াকওয়ের ড্রপ ওয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মূল পিলার বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের কাঠ বা সাপোর্ট খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশ কিছুটা ধসে পড়েছে। যে অংশে সমস্যা হয়েছে, আপাতত সেটির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই