মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিতৃংঙ্গা চা বাগানে রাতের দায়িত্ব পালনকালে ৫ শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হায়াত খান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিতৃংঙ্গা চা বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনের সীমানা গেটসংলগ্ন চৌকিদারদের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকেরা হলেন- সুবল মুন্ডা (৩০), রাজেশ হাজং (২৫), সুমন গড় (৩০), ফুল চাঁন উড়াং (৫৮) ও রতন উড়াং (৪০)। তারা সবাই ওই চাবাগানের স্থায়ী শ্রমিক এবং সেকশন চৌকিদারের দায়িত্বে ছিলেন।
কমলগঞ্জ থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, রাতের দায়িত্ব পালনকালে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি বাঁশের লাঠি, কাঠের রুল, লোহার রড ও ধারালো দা নিয়ে শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সুবল মুন্ডা ও রাজেশ হাজংয়ের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা-রক্তাক্ত জখম হয়। সুমন গড়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও বাম হাতে ফাটা জখম হয়। ফুল চাঁন উড়াং ও রতন উড়াংকেও লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শ্রমিকদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় আহত শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরে আহতদের প্রথমে মিতৃংঙ্গা চাবাগানের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এ ঘটনায় বাগানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হায়াত খান বলেন, আহত শ্রমিকদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আমি সেখানে গিয়ে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কমর উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা