কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার হাজতখানায় পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ইকবাল শেখ গারো (৪১) নামের এক আসামি। এ সময় আরেক আসামির চিৎকারে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী থানার হাজতখানায় এ ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এ ঘটনার প্রমাণ মিলেছে।
আসামি ইকবাল শেখ গারো উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার মৃত ইসলাম শেখের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে স্পেশাল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে পাঁচটি মুরগিসহ ইকবাল শেখ গারোকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। পাশাপাশি মুরগিগুলোর বিষয়ে তিনি সঠিক তথ্য-প্রমাণ দিতে না পারায় ভোর ৬টার দিকে তাকে আটক করে থানার হাজতে রাখা হয়। এরপর সাড়ে ৬টার দিকে পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ইকবাল প্রথমে পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর হাজতখানার দেয়ালে থাকা লোহার গ্রিলে ছেঁড়া লুঙ্গি বেঁধে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আবারও ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করলে আরেক আসামি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন এবং তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ছুটে এসে ইকবালকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, পাঁচটি মুরগি সঙ্গে থাকায় সন্দেহ হলে ইকবাল শেখ গারোকে আটক করে থানার হাজতে রাখা হয়। এরপর হাজতখানায় পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে পুলিশের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
ওসি আরও জানান, থানার হাজতে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় ইকবাল শেখ গারোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।
সময়ের আলো/আতা