আজমিরীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে নিয়মিত ওএমএসের চাল ও আটা উত্তোলন করা হলেও নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র বদলপুর ইউনিয়নের বদলপুর বাজারে তা নিয়মিত বিক্রি না করার অভিযোগ উঠেছে ডিলার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ওএমএসের চাল-আটা বিতরণ করছেন না। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাল-আটা কিনতে গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে প্রতিদিন প্রতিটি ওএমএস ডিলারের জন্য ১ মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ কেজি আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা কিনতে পারেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে।
রোববার ও সোমবার ডিলার সাইফুল ইসলামের নামে প্রতিদিন ১ হাজার কেজি চাল ও ৫০০ কেজি আটা করে মোট দুই দিনে ২ হাজার কেজি চাল ও ১ হাজার কেজি আটা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এসব খাদ্যশস্যের মোট মূল্য ৮৪ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্য গুদাম থেকে নিয়মিত চাল-আটা উত্তোলন করা হলেও বদলপুর বাজারের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিতরণ কার্যক্রম দেখা যায় না। ফলে গুদাম থেকে উত্তোলন করা চাল-আটা কোথায় এবং কীভাবে বিতরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে ডিলার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য কাজে ঝামেলায় থাকার কারণে গত দুই দিনের বরাদ্দ বিতরণ করতে পারিনি।
বরাদ্দের চাল-আটা কোথায় রয়েছে জানতে চাইলে পরে তিনি বিতরণ করেছেন বলে জানান। কখন বিতরণ করেছেন জানতে চাইলে তিনি সন্ধ্যায় বিতরণ করেছেন বলে জানান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি “পরে কথা বলবেন” বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে আজমিরীগঞ্জ খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা (এলএসডি) সামছুল হুদা ফয়সল বলেন, দৈনিক বিতরণের মাল দৈনিক নিয়ে যায়। যেমন সোমবার বিতরণের মাল রবিবার নিয়ে গেছে।
ওএমএসের খাদ্যশস্য বিতরণের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, আমি মাল বিতরণের কোনো কিছুই জানি না।
তিনি আরও জানান, মাল বিতরণের রেজিস্টারে পরিদর্শন সংক্রান্ত কোনো স্বাক্ষরও তিনি করেননি।
বদলপুর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ও ভোক্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বাজারটি ছোট এবং এক গলির মধ্যে। এখানে নিয়মিত ওএমএসের চাল-আটা বিতরণ হলে তা সহজেই চোখে পড়ত। এমনকি তারা নিজেরাও চাল-আটা কিনতে পারতেন। কিন্তু তারা নিয়মিত এমন বিতরণ কার্যক্রম দেখতে পান না বলে জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য শ্যামল দাস বলেন, বাজারে ওএমএসের চাল-আটা বিক্রির বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে জানাব।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে খাদ্য গুদামের ইস্যু চালান, ডিলারের উত্তোলন রেজিস্টার, বদলপুর বাজারের বিক্রয় রেজিস্টার, ভোক্তাদের স্বাক্ষর এবং পরিদর্শন রেজিস্টার যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে গুদাম থেকে উত্তোলন করা ওএমএসের চাল-আটা প্রকৃতপক্ষে কোথায়, কখন এবং কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে— তা বের করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভারপ্রাপ্ত মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
সময়ের আলো/আতা