চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বদলির শেষ মুহূর্তে মাত্র দুই দিনে তিন শতাধিক নামজারি অনুমোদনের অভিযোগ নিয়ে সময়ের আলোর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নামজারি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা খোঁজখবর শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ইউএনওর সরকারি বাসভবনে শেষ কর্মদিবসের রাতে কারা যাতায়াত করেছেন, সেটিও খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ‘বদলির শেষ মুহূর্তে ইউএনওর ৩ শতাধিক নামজারি অনুমোদন!’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে উঠে আসে দুই দিনে বিপুলসংখ্যক নামজারি অনুমোদনের তথ্য ও বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নজরে আসে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার মো. আসিফ জাহান শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুইদিনে ৩ শতাধিক নামজারির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নজরে এসেছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে নামজারি সংক্রান্ত সরকারি ও ডিজিটাল রেকর্ড যাচাই। ২৫ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সাতকানিয়া উপজেলায় অনুমোদিত নামজারি মামলার তালিকা সংগ্রহ করে প্রতিটি ফাইলের গতিপথ পরীক্ষা করা হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণের সময়, শুনানির তারিখ, তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট তহশিলদার বা ভূমি কর্মকর্তার মতামত, ফাইল উপস্থাপনের সময় এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সময়— সবকিছু মিলিয়ে দেখা হতে পারে।
বিশেষ করে দুই দিনে তিন শতাধিক নামজারি অনুমোদনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বাস্তবতা যাচাইয়ে ডিজিটাল সিস্টেমের লগ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ ডিজিটাল রেকর্ড থেকে কোন ব্যবহারকারী কখন ফাইলে প্রবেশ করেছেন এবং কখন অনুমোদন দিয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, ইউএনওর শেষ কর্মদিবসের আগের রাতে সরকারি বাসভবনে কারা গিয়েছিলেন, কখন প্রবেশ করেছেন এবং কখন বের হয়েছেন— এসব তথ্য যাচাই করছেন গোয়েন্দারা। এ জন্য বাসভবন ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা