ইসির চোখ আইনশৃঙ্খলায়

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) দিয়ে স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি সেপ্টেম্বরে তফসিল ও

2026-09-01T03:12:01+00:00
2026-09-01T03:12:30+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
ইসির চোখ আইনশৃঙ্খলায়
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ এএম  আপডেট: ০১.০৯.২০২৬ ৩:১২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) দিয়ে স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি সেপ্টেম্বরে তফসিল ও নভেম্বরে ভোট করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইসি। ফলে নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান কমিশন। তবে সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত ভোট আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। সম্প্রতি পুলিশ প্রধান, আনসার ও বিজিবি প্রধানের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।

গত ১৮ আগস্ট আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি। বৈঠকে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন চেয়েছে সিইসি। বৈঠক শেষে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা করেছি। সেখানে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সেল গঠন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে শিগগিরই পরিস্থিতি প্রতিবেদন দেওয়া হবে ইসিকে।

এরপর গত ২৭ আগস্ট নিজ দফতরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে কমিশনের অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি নেই। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করা হয়েছে, তার চেয়ে ভালো নির্বাচন করার চেষ্টা করা হবে। সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবে মোবিলাইজ করার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সময় পুলিশ কী পরিমাণ সদস্য দিতে পারবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় মাঠ পর্যবেক্ষণে ব্যবহারের জন্য চাওয়া হয়েছে। এর আগে ২৪ আগস্ট বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এবং ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন সিইসি। ওইসব বৈঠকেও নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেনারেললি পুলিশ, আনসার ও বিজিবির সঙ্গে বসেছিল। তবে শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবার সঙ্গে অফিসিয়াললি বসব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামত নেব। তারা কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবে সে বিষয়ে ধারণা নেব। 

তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আইন পরিবর্তন হলেও সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বসব না। আমরা পুলিশ, আনসার ও বিজিবিকে যথেষ্ট মনে করি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি বেশি খারাপ হয় তখন তাদের ডাকব। আমরা সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি।

এদিকে নির্বাচন যত কাছে আসছে ভোট নিয়ে জনমনে ততই সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে। কারণ বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানি ঘটেছে। তাই আসন্ন নির্বাচনেও এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন অনেকেই। নির্বাচন কমিশন ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও প্রাণহানি ঘটে। এ সময় ২৩৬ জন নিহত এবং আট হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়।

এরপর ২০২১ সালে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় ১১৬ জন প্রাণ হারান বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জরিপে উঠে এসেছে। ২০২১-২২ সালের নির্বাচনে মোট ৬টি ধাপে ভোট হয়, যার মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ২০২১ সালেই ইউপি সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হয়। পরবর্তী ধাপের সংঘাতসহ এ সংখ্যা ১১৬ জন ছাড়িয়ে যায়। ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে সহিংসতার অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় প্রতীক ব্যবহার। এ কারণে একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও মূল প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিদ্রোহী ও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা হয়।


তবে এবার সেই চিত্র বদলাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম সময়ের আলোকে বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রতীকের কারণে সহিংসতা ও প্রাণহানি বেশি ঘটেছিল। এবার একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে। এবার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। তাই প্রাণহানি বা সহিংসতা কম হবে বলে মনে করছি। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো যদি চায় তা হলে সহিংসতা অনেক কমে আসবে। যেটি আমরা জাতীয় নির্বাচনে দেখেছি। কোনো দলই চাইবে না মাঠে একাধিক প্রার্থী থাকুক। তারা সেভাবেই মাঠ গোছাচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। তাই প্রার্থী কম হলে সহিংসতাও কম হবে।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে তাদের কোনো প্রার্থী যদি অংশ নেয় তা হলে অন্য দলগুলো দলীয় ট্যাগ দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে এবং এ কারণে সহিংসতা ও প্রাণহানি হতে পারে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। কারণ আমরা ধাপে ধাপে নির্বাচন করব, সব একসঙ্গে করব না। আমরা নির্দেশ দেব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। দেশব্যাপী হলে চিন্তার বিষয় ছিল। আইনশৃঙ্খলার ওপর আমাদের দৃষ্টি থাকবে। সবাই চায় সংঘাতমুক্ত একটা নির্বাচন। তার জন্য আমরা চেষ্টাও করছি। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানোর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জামায়াত বুঝি না। যে ব্যক্তি দাঁড়াবেন ওই ব্যক্তির সঙ্গে প্রশ্ন। ওই ব্যক্তি যে পদে দাঁড়াবেন সেই পদে যদি তার যোগ্যতা থাকে তা হলেই তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। এখানে দলের কোনো প্রশ্ন আসবে না। কারণ কে কোন দলের সেটি কীভাবে বুঝব। আইনগতভাবে ধরার কোনো সুযোগ নেই। একটি সংঘাতমুক্ত নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলাসহ যে যে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার কমিশন সবই পদক্ষেপ নেবে এবং কমিশন এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন আছে। সবদিক অ্যাসেস করেই কাজ করতে চাচ্ছি।

নির্বাচনে কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংঘাতমুক্ত নির্বাচন করতে গেলে যেসব বাধা আসবে সেগুলোই চ্যালেঞ্জ। আমরা সুন্দর নির্বাচন করতে চাই। তাই সুন্দর নির্বাচন করতে কী কী বাধা আমরা সেগুলো অ্যাসেসমেন্ট করছি। যেসব বিষয় বা সংশয়ের কথা মানুষের কাছে শুনছি সব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে। তারা আমাদের নিশ্চিত করবে যে, নির্বাচনের সময় কোনো সংঘাত ঘটবে না। তবে একশ পার্সেন্ট গ্যারান্টি তো কেউ দিতে পারবে না।

প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আশঙ্কার কথা বলছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশঙ্কা তো আশঙ্কাই। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নাও থাকতে পারে। তবে আশঙ্কাকে ধরেই আমরা এগোব আর না ঘটলে আলহামদুলিল্লাহ। 

কোনো জায়গায় যদি পাঁচ পার্সেন্টও শঙ্কা থাকে সেটিও আমরা আমলে নেব। এই ইসি বলেন, নির্বাচন ছাড়াও এলাকাভিত্তিক অনেক গণ্ডগোল থাকে। অনেকের ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকে, অন্য সময় করলে ঝামেলা, তাই নির্বাচনের সময় সুযোগ নেয়। এ রকম দুর্ঘটনা অনেক ঘটে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে


  বিষয়:   ইসি  চোখ  আইনশৃঙ্খলা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: