লর্ডস টেস্টে ব্যাট হাতে আরেকবার ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলি। তার প্রশ্ন, দলের কঠিন সময়ে যিনি ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারেন না, তাকে শুধু জনপ্রিয়তার কারণে বড় ক্রিকেটার বলা যায় কি না?
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের দুই ইনিংসে বাবরের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৮ ও ৬ রান। হাতের চোট কাটিয়ে মাঠে নামা এই ব্যাটারকে ঘিরে পাকিস্তানের সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানের বড় হারে দুই ম্যাচেই জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ‘দ্য গেমপ্ল্যান শো’তে বাবরের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাসিত আলি পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তিদের উদাহরণ টানেন। মজিদ খান, জহির আব্বাস, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ইনজামাম-উল-হক, ইউনিস খান ও সাঈদ আনোয়ারের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিতে পারতেন বলেই কিংবদন্তি হয়েছেন।
বাসিতের মতে, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা কিংবা ভক্তদের পছন্দের তালিকায় থাকা কোনো ক্রিকেটারের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হতে পারে না। তার ভাষায়, ‘বিপদের দিনে যারা কাণ্ডারি হতে পারেন না, তাদের বড় খেলোয়াড় বলে লাভ কী? আপনার বড়ত্ব কি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায়?’ বাবরের টেস্ট ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও তার সমালোচনার কারণ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১ রান করার পর থেকে টেস্টে আর সেঞ্চুরি করতে পারেননি পাকিস্তানের এই ব্যাটার।
সবশেষ ১৬ টেস্টে তার ব্যাটিং গড়ও নেমে এসেছে প্রায় ৩০-এর ঘরে। লর্ডসে দ্বিতীয় ইনিংসে দলকে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হতো। সেই পরিস্থিতি বাবরের কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকলেও জোফরা আর্চারের বলে ক্যাচ দিয়ে ৬ রানেই ফিরে যান তিনি। এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাসিত।
তার মতে, দলের সবাই যখন একজন ব্যাটারের দিকে তাকিয়ে থাকে, তখন এমন শটে আউট হওয়া কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তবে শুধু বাবর নন, পাকিস্তানের পুরো ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্স নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। লর্ডস টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে থেমেছে ১৯৪ রানে। এর আগে হেডিংলিতেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
দুই ম্যাচেই ব্যর্থতার কারণে এরই মধ্যে পাকিস্তান দলে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে শেষ টেস্টের দল থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইমাম-উল-হকের চোট নিয়েও তদন্তের কথা জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এদিকে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামের এজবাস্টনে।
সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় এখন পাকিস্তানের লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সফর শেষ করা। তবে তার আগে বাবরসহ দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটিই এখন পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় আলোচনার বিষয়।
পাকিস্তানের এমন টানা ব্যর্থতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নকভির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান পিসিবি গত ৭০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে বোর্ড। লতিফ বলেন, ‘সবাই পাকিস্তান দলকে নিয়ে কথা বলছে এবং একে গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে সফরকারী দল বলছে।
সময়ের আল/প্রিন্ট/টিকে