আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির পথচলা যে একদিন থামবে, সেটি জানা ছিল। তবু এই দিনের জন্য কোনো ফুটবলপ্রেমী কিংবা মেসির সতীর্থরা যেন প্রস্তুত ছিল না। তাইতো জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে ঘিরে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণায় ভাসছেন আর্জেন্টিনার বর্তমান ও সাবেক সতীর্থরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি জানিয়ে দেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে তার দীর্ঘ যাত্রার ইতি ঘটছে। এরপরই একে একে তাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিতে শুরু করেন সতীর্থরা।
মেসির সঙ্গে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলে খেলা লাওতারো মার্তিনেজের বার্তাজুড়ে রয়েছে কৃতজ্ঞতা। তার মতে, মেসি মাঠে যা অর্জন করেছেন, তার বাইরেও সতীর্থদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন। কখনো হাল না ছাড়া, প্রতিটি ধাক্কার পর আবার চেষ্টা করা, নীরবে কাজ করে যাওয়া এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার শিক্ষা মেসির কাছ থেকেই পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন লাওতারো।
তিনি লিখেছেন, ‘তোমার নেতৃত্ব শুধু গোল, অ্যাসিস্ট বা শিরোপার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।’
জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে মেসি যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন, সেটিকেই তার সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে দেখছেন লাওতারো। শেষে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’
মাত্র ২১ বছর বয়সী নিকো পাজ যেন মেসির সিদ্ধান্ত মেনে নিতেই পারছেন না। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘না, লিওওও। তোমার দেয়ার মতো আরও অনেক বাকি আছে।’
মেসির সঙ্গে একই দলে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল এনজো ফার্নান্দেজের কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। মেসির ২০১৬ সালের অবসর ঘোষণার কথা মনে করে ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, তখন তিনি খুবই অল্প বয়সী ছিলেন। মেসির সঙ্গে কখনো খেলতে পারবেন কি না, সেটি হিসাব করতে নিজের বয়সের সঙ্গে মেসির বয়স মিলিয়ে দেখতেন।
ফার্নান্দেজ লিখেছেন, ‘কথাটা বোকার মতো শোনাতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই তা-ই করতাম...ভাগ্য ভালো যে তুমি ফিরে এসেছিলে।’
এরপর মেসির সঙ্গে তার পাওয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এনজো জানান, শুধু একই দলে খেলার সুযোগই নয়, একসঙ্গে ক্যাম্প করা, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া, কঠিন সময় পার করা এবং অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সবশেষে একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়েছেন।
মেসিকে ছাড়া ভবিষ্যতের জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করাটাও কঠিন বলে জানিয়েছেন এনজো। তার ভাষায়, ‘এত বছর পর মাঠে মেসিকে ১০ নম্বর জার্সিতে না দেখার বিষয়টি চোখের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে। ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’
মেসির ঘনিষ্ঠ সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। আর্জেন্টিনা দলের এই ‘দেহরক্ষী’ ইনস্টাগ্রামে মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন দেশের প্রতি তার ভালোবাসা, কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতা, অবিচার সহ্য করার শক্তি এবং সতীর্থদের প্রতি তার মানবিকতার কথা।
ডি পল লিখেছেন, ‘সর্বকালের সেরা, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না যে আমাদের মুখে কত হাসি ফুটিয়েছ। তুমি অমর।’
মেসির সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়া ইনস্টাগ্রামে মাত্র তিনটি শব্দে লিখেছেন, ‘চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক।’ এই তিনটি শব্দই যেন অনেক কথা বলে দেয়।
মেসির বন্ধু ও জাতীয় দলের সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্বীকার করেছেন, এই ঘোষণার জন্য নিজেকে প্রস্তুত ভেবেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রস্তুত মনে হয়নি। একজন আর্জেন্টাইন, জাতীয় দলের সমর্থক, সতীর্থ ও বন্ধু হিসেবে মেসি তার জন্য যা করেছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পারেদেস। মেসির অবদান ও খেলোয়াড় হিসেবে তার মহানুভবতার পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও তাকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সময়ের আলো/মহু