সীতাকুণ্ড পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামের বদলি আদেশ শেষমুহূর্তে এসে বাতিল করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত আরেকটি আদেশে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই দিন আগে এই আদেশ বাতিল করায় পুরো পৌরসভাজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন।
দীর্ঘ এক যুগ ধরে একই কর্মস্থলে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখাসহ নানা অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জনস্বার্থে স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে (৭০৩ নম্বর) সিইও নজরুল ইসলামকে নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভায় বদলি করা হয়েছিল। ওই আদেশে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে ২ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছিল।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম ও চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈন উদ্দিন হাসান জানান, বদলি ও তা বাতিল করা সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ নিয়ে মাঠ প্রশাসনের কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। একই কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকার শাখার পরিচালক (ডিএলজি) মনোয়ারা বেগমও।
সিইও নজরুল ইসলামের এই বদলি এবং তা বাতিলের নেপথ্যে রয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর গুঞ্জন। পৌরসভার ভেতরে আছে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা। স্থানীয় ও দাফতরিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ ধরে পৌরসভার মূল দাফতরিক কক্ষেই আবাসিক হিসেবে বসবাস করে আসছেন এই কর্মকর্তা। এর ফলে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বাবদ অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। সম্প্রতি মাত্র দুই মাসেই পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল ৪ লাখ টাকা ওঠার ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এছাড়াও পৌর ভবনের ভেতরে প্রকৌশল, নকশা ও প্রশাসন শাখাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে। সিইওর নির্দেশ সাধারণ পিয়ন পর্যন্ত মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ছুটিকে কেন্দ্র করে সিইও ও এক অফিস সহকারীর মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ এবং সিইওর হাত থেকে নকশাকারক কর্তৃক হাজিরা খাতা কেড়ে নেওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে দাফতরিক অস্থিরতার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নাগরিক সেবায়। সীতাকুণ্ড পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙাচোরা সড়ক, ড্রেনেজ সংকট এবং জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে ভোলাগির আশ্রম, চৌধুরীপাড়া, আমিরাবাদ ও নামার বাজার এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এমনকি সাধারণ নাগরিক সনদ পেতেও দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। এমন নানা বিতর্ক ও জনঅসন্তোষের মাঝেই সিইওর বদলি আদেশ হঠাৎ বাতিল হওয়ায় জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
সময়ের আলো/এনএন