এ বছর বিপিএল হচ্ছে না, তাই চলতি মৌসুমে বড় অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হবেন দেশের অনেক ক্রিকেটার। ক্ষতিটা কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নের সরাসরি সমাধান অবশ্য এখনই মিলছে না। তবে সাময়িক ক্ষতিপূরণের বদলে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ নিয়ে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুবার বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। আলোচনায় ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে বিপিএলের বিকল্প কোনো টুর্নামেন্টের দাবি না
থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের চার প্রতিযোগিতার ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার বিষয়ে বিসিবির কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি মিলেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠক শেষে মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি সাইফ হাসান। তার দাবি, বিসিবির সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে ‘ফ্রুটফুল’।
সাইফ বলেন, ‘বিপিএল যেহেতু হচ্ছে না, অবশ্যই আমাদের একটি ক্ষতি হচ্ছে। তবে বিসিবি আমাদের জন্য খুব ভালো একটা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রেখেছে, যেখানে শুধু বিপিএলের খেলোয়াড় নন; বরং আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের যত খেলোয়াড় আছেন, সবার জন্যই তা উপকারী হবে।’
বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে, সেটি বিসিবির পক্ষ থেকেই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সাইফ। এদিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এককালীন কিছু অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। যদিও ক্রিকেটাররা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা। ক্রিকেটারদের আয়ের অন্যতম বড় দুই উৎস ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ও বিপিএল। কিন্তু দুই প্রতিযোগিতা নিয়েই প্রায় প্রতিবছর তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। ফলে শুধু একটি মৌসুমের ক্ষতিপূরণ নয়, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই ক্রিকেটারদের নিয়মিত ও পর্যাপ্ত আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে বিসিবির অধীনে আয়োজিত চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের ও এক দিনের সংস্করণ।
বিসিবিও এই চার প্রতিযোগিতায় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
তবে বিপিএলের পরিবর্তে আলাদা কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।
তিনি বলেন, ‘বিপিএল না হওয়ায় বিকল্প কিছু করে খেলোয়াড়দের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা এখন নেই এবং সেটি হবেও না। বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কিছু হচ্ছে না।’
অর্থাৎ, বিপিএলের জায়গায় নতুন কোনো প্রতিযোগিতা এনে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেটারদের আয় নিশ্চিত করার পথে যাচ্ছে না বিসিবি। বরং বিদ্যমান ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিযোগিতাগুলোতেই আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মিঠুনের মতে, এবার আলোচনার মূল লক্ষ্য শুধু বিপিএল খেলা ক্রিকেটারদের সাময়িক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া নয়। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটের বৃহত্তর পরিসরের খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদে লাভবান করা।
কোয়াব সভাপতি বলেন, ‘আমরা শুধু ৫০ থেকে ৭০ জন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তা না করে কীভাবে ১৫০ থেকে ২০০ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারে এবং বিষয়টি যেন টেকসই হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বছরের সাময়িক সুবিধার কথা চিন্তা না করে আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।’
তিন দিনের ব্যবধানে বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের এটি দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে আলোচনার পর ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেছিলেন নাসির হোসেন। তখন জানিয়েছিলেন, তারা আলোচনায় ‘সন্তুষ্ট’। এবার সাইফ হাসানের বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই ধরনের সন্তুষ্টির কথা।
বিপিএল না হওয়ার তাৎক্ষণিক আর্থিক ধাক্কা থাকলেও ক্রিকেটাররা এবার সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি