ফুরাল রাতজাগা ফুটবলের গল্প

আরমান মুকুল

খেলা

কিছু মানুষ শুধু একটি খেলায় অংশ নেন না, তারা একটি সময়কে নিজের সঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেন। তাদের মাঠে নামা মানেই

2026-09-02T03:20:32+00:00
2026-09-02T03:20:32+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
ফুরাল রাতজাগা ফুটবলের গল্প
আরমান মুকুল
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২০ এএম 
আর্জেন্টিনার ফুটবলার মেসি। ছবি : সংগৃহীত
কিছু মানুষ শুধু একটি খেলায় অংশ নেন না, তারা একটি সময়কে নিজের সঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেন। তাদের মাঠে নামা মানেই কারও রাত জাগা, কারও ভোরের অপেক্ষা, কারও ঘরে নীরবে ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখা। লিওনেল মেসিও তেমনই একজন। তাকে দেখে যারা ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখেছে, তার বাঁ পায়ের জাদু দেখে যারা এই খেলাটার প্রেমে পড়েছে, মেসির বিদায়ের খবর তাদের কাছে তাই নিছক অবসরের ঘোষণা নয়। এ যেন নিজের জীবনেরই একটি অধ্যায়ের শেষ হয়ে যাওয়া।

আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির গল্পের শুরুটা কিন্তু রূপকথার মতো ছিল না। হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই দেখেছিলেন লাল কার্ড। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম কয়েক মুহূর্তেই যে তিক্ত অভিজ্ঞতা, সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ এক পথচলা। সেই তরুণকে তখন কে জানত, একদিন তিনিই হয়ে উঠবেন আর্জেন্টিনাকে ছাপিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক? সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেসি শুধু গোল করা কিংবা ম্যাচ জেতানো একজন খেলোয়াড় থাকেননি। বল পায়ে তার দৌড়, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, অসম্ভব জায়গা দিয়ে সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দেওয়া। সবকিছু মিলিয়ে ফুটবল যেন তার পায়ে অন্য এক ভাষা পেয়েছিল। তাকে দেখলে মনে হতো, মাঠের অন্য সবার জন্য যেখানে নিয়ম শেষ, তার জন্য সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন কোনো সম্ভাবনা।

Advertisement
তবে দেশের জার্সিতে তার পথ কখনোই সহজ ছিল না। একের পর এক হতাশা, ফাইনালে হার, সমালোচনা আর নিজের দেশের মানুষের প্রত্যাশার ভার তাকে বহুবার ভেঙে দিয়েছে। এমন এক সময়ও এসেছিল, যখন অভিমান করে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। মনে হয়েছিল, হয়তো এই গল্পের শেষটা বেদনাতেই লেখা থাকবে। কিন্তু যেন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিয়তি মেসিকে বলে দিয়েছিল, তাকে একদিন সোনালি ট্রফিটা ছুঁতেই হবে। বিশ্বকাপ ছাড়া তার গল্পে যেন কোথাও একটা অপূর্ণতা থেকে যাবে। বছরের পর বছর সেই অপূর্ণতার ভার বয়ে শেষ পর্যন্ত কাতারে পৌঁছেছিলেন তিনি। 

২০২২ সালে সেই স্বপ্ন ছুঁয়ে মেসি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তার গল্প পূর্ণতা পাওয়ারই ছিল। কোপা আমেরিকার শিরোপা দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, এরপর কাতারের সেই রাত। যে রাতে বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নিয়ে মেসি আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন। বহু বছরের কান্না, হতাশা, অপূর্ণতা আর অপেক্ষার যেন সেদিন একটি উত্তর মিলেছিল। মনে হয়েছিল, এর চেয়ে সুন্দর সমাপ্তি আর কী হতে পারে! তবু তিনি থামেননি। বিশ্বকাপ জয়ের পরও আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নেমেছেন, নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। বয়স বাড়লেও ফুটবলের প্রতি তার সেই শিশুসুলভ আনন্দটুকু হারিয়ে যায়নি।


এবার অবশ্য সেই পথচলার শেষ ঘোষণা করলেন তিনি। এই বিদায় শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, মেসিকে ঘিরে বেড়ে ওঠা কোটি মানুষের জন্যও এক অদ্ভুত শূন্যতা। যে শিশুটি বাবার পাশে বসে প্রথম মেসির খেলা দেখেছিল, সে আজ হয়তো নিজেই বাবা। যে কিশোর মেসির গোল দেখে বন্ধুর সঙ্গে উল্লাস করেছিল, আজ সে প্রাপ্তবয়স্ক। অথচ তাদের স্মৃতিতে মেসি এখনও সেই একই মানুষ। বল পায়ে ছুটে চলা এক জাদুকর। একদিন আবার আর্জেন্টিনার ম্যাচ হবে। মাঠে আলো জ্বলবে, গ্যালারি ভরে যাবে, নতুন কোনো নায়ক আকাশি-সাদা জার্সি পরে দৌড়াবেন। দশ নম্বর জার্সিটিও থাকবে। শুধু তার ভেতরে থাকবে না সেই পরিচিত মানুষটি।

ফুটবল চলবে, নতুন গল্প লেখা হবে। কিন্তু মেসির গল্পের জায়গাটা আলাদা হয়েই থাকবে। কারণ কিছু মানুষ মাঠ ছেড়ে গেলেও সময় থেকে বিদায় নিতে পারেন না। তারা থেকে যান স্মৃতিতে, ভালোবাসায়, পুরোনো ম্যাচের দৃশ্যে, কোনো শিশুর স্বপ্নে। লিওনেল মেসিও থেকে যাবেন। মাঠে আর দেখা যাবে না তাকে, কিন্তু ফুটবল নামের এই সুন্দর খেলাটার গল্পে তার অধ্যায় কখনো শেষ হবে না।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   ফুটবল  মেসি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: