বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পর থেকেই যেন একের পর এক ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। শিরোপা হারানোর সঙ্গে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা, এরপর মেসির অবসর— সব মিলিয়ে জাতীয় দলের দুঃসময় যেন কাটছেই না। এর মধ্যে ক্লাব ফুটবলেও স্বস্তিতে নেই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা। একের পর এক ক্লাবে শুনতে হচ্ছে সমর্থকদের দুয়োধ্বনি। অবশ্য প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কারণটা আলাদা।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ছেড়ে বার্সেলোনায় যেতে আগ্রহী ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। তবে ক্লাব তাকে ছাড়তে রাজি হয়নি। অন্য ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বার্সেলোনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার আচরণে বিরক্ত অ্যাটলেটিকোর সমর্থকেরা। আর সেই বিরক্তির প্রকাশ ঘটেছে দুয়োধ্বনিতে।
চেলসিতে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। তাকে ঘিরে সমর্থকদের ক্ষোভের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করা, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বার্তা দেওয়া ব্যানার হাতে নেওয়া এবং এবার ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়— সব মিলিয়েই চেলসি সমর্থকদের একাংশ তার ওপর বিরক্ত।
তবে আর্জেন্টাইনদের প্রতি ইংলিশ সমর্থকদের ক্ষোভের মূল কারণ সেই বিশ্বকাপই। ভ্যালেন্টিন বারকোর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দলে নতুন যোগ দিয়েই সমর্থকদের দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে তাকে। কারণ, তিনিও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন সেই বিশ্বকাপে। তবে প্রথম ম্যাচেই লুটনের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে দর্শকদের মন জয় করে নেন বারকো।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর সেই ক্ষত এখনো যে পুরোপুরি শুকায়নি, এসব ঘটনাই তার প্রমাণ। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর অবশ্য ভাগ্য ভালো। টটেনহাম ছেড়ে আগেই চলে গেছেন তিনি। থাকলে হয়তো ইংলিশ ক্লাবটির সমর্থকদের দুয়োধ্বনি তাকেও শুনতে হতো।
একদিকে ইংলিশ ক্লাবগুলোতে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের নিয়ে সমর্থকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, অন্যদিকে ফিফার নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মেসির অবসর। সব মিলিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সময়টা এখন যেন সত্যিই ছন্নছাড়া।
সময়ের আলো/কেএইচও