পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

শতাধিক গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি

2026-09-02T15:22:12+00:00
2026-09-02T15:24:01+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইন-আদালত
ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য
পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম  আপডেট: ০২.০৯.২০২৬ ৩:২৪ পিএম
জিয়াউল আহসান। ছবি : সংগৃহীত
শতাধিক গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তিনি জানিয়েছেন, পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে আব্বাস মল্লিক এ কথা জানান। এসময় ২০১০ এবং ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের করা বর্বর কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন তিনি।

Advertisement
ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, ‘জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন চরদুয়ানি বাজারে আসতেন। বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে গুলি করে হত্যা করা হতো, পরে সাংবাদিক ডেকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হতো।’


আব্বাস মল্লিক জানান, যেদিন এলাকায় অভিযান হতো, সেদিন বিকেলে সাদা পোশাকে ২ জন র‍্যাব সদস্য এসে স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখতে এবং বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের ৪ থেকে ৫টি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের নিয়ে এসে ট্রলারে তোলা হতো। এ সময় র‍্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তা সঙ্গে নিতেন।

আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দিদের বলেশ্বর নদী হয়ে গভীর পানির দিকে নিয়ে যাওয়া হতো। তারপর ট্রলারের গতি কমিয়ে দেয়া হতো এবং ট্রলারের ভেতর থেকে চোখ-হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের বের করে আনা হতো। তারপর বন্দিকে দুজন র‍্যাব সদস্য চেপে ধরতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে এসে ওই বন্দির মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করতেন।

গুলির পর মরদেহের গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য লাশ নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে ফেলা হতো। এরপর সুন্দরবনে নিয়ে অন্য বন্দিদের বোট থেকে নামিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হতো এবং সাংবাদিকদের ডেকে থানায় মরদেহ হস্তান্তর করা হতো।

হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন এই মাঝি।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালে তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার ভাইয়ের ২টি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু র‍্যাবের এই কর্মকাণ্ডের কথা আলকাছ বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় অন্য বোটের মালিকরা তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, র‍্যাব তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।

পরে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। কারণ র‍্যাব থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়েছিল, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আজ পর্যন্ত তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

ঘটনার পর খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল এবং ঢাকার র‍্যাব কার্যালয়ে ঘুরেও ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি আব্বাস মল্লিক। পাথরঘাটা থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ সেখানে জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে সাক্ষ্যে উঠে আসে।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   জিয়াউল আহসান  ট্রাইব্যুনাল  সাক্ষ্য  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: