যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তাঁর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দিয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাহেদ তালুকদারের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী বর্ণা খানমকে উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত সাহেদ তালুকদার (২৩) ড. এমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত শেখের ছেলে। এ ঘটনায় সাহেদ ও তাঁর মা-বাবাকে অভিযুক্ত করে টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বর্ণার মা জেসমিন বেগম।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৫ সালের ২৬ মে গোপালগঞ্জ আদালতের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সাহেদ তালুকদারের সঙ্গে লেবুতলা গ্রামের মৃত আনসার শেখের মেয়ে বর্ণা খানমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় সাহেদ স্ত্রীকে মারধর করে তাঁর মায়ের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাহেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্ণাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেয়ের সংসারের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা দেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করেন জেসমিন বেগম। পরে গত ২৯ আগস্ট তিনি ও তাঁর মেয়ে কল্পনা বেগম সাহেদের বাড়িতে বর্ণাকে আনতে গেলে তাঁদের সামনেই বর্ণাকে মারধর করে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
বর্ণার মা জেসমিন বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই জামাই কথায় কথায় টাকা দাবি করে। আগে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছি, কিন্তু এখন আর দিতে পারি না। টাকা না পেলেই আমার মেয়েকে মারধর করে। মেয়েকে আনতে গেলে আমাকেও গালাগালি করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব কারণে যদি আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, তাহলে সে দায় কে নেবে? আমি আর ওর কাছে মেয়ে দেব না।’
বর্ণা খানম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই সাহেদ তাঁর কাছে টাকা-পয়সা চাইতেন। এমনকি তাঁর বাবার বাড়ি থেকেও কয়েকবার টাকা চুরি করেছেন বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর ভাষ্য, বিয়ের পর থেকে সাহেদ তাঁকে কোনো কিছু কিনে দেননি। সাহেদ নিয়মিত নেশা করে তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর মা মাসুলা বেগম এতে সায় দেন।
বর্ণা আরও বলেন, ‘কোনো কাজ না করে শুধু টাকা চায়, আর না দিলে বিএনপির দলীয় পদের ক্ষমতা দেখায়। কয়েকদিন আগেও আমার মা ও বড় বোনের সামনে আমাকে বেধড়ক মারধর করে আটকে রেখেছে। আমি তাঁর সঙ্গে সংসার করতে চাই না।’
বর্ণার বড় বোন কল্পনা খানম বলেন, মারধরের খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর মা বর্ণাকে আনতে গেলে তাঁকেও মারধর করে আটকে রাখা হয়। তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে তাঁর মা টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ গিয়ে বর্ণাকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দিয়ে যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহেদ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো শাশুড়ির কাছে যৌতুক দাবি করিনি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় কখনো কখনো বেশি কথা বলেছি। তারা আমার সংসার ভাঙার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। পুলিশ এসে আমার স্ত্রীকে তাঁর মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব।’
টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের পর প্রাথমিকভাবে বর্ণাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাঁর মা জেসমিন বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত করে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এসএকে