নাটোরের গুরুদাসপুরে মরিয়ম খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যার দায়ে তাঁর স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া তথ্য ও আলামত গোপন করার দায়ে নিহতের শ্বশুর ফজলুর রহমান ও শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নাটোর জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, ২০১৪ সালে গুরুদাসপুর উপজেলার পিপলা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বামনবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল মণ্ডলের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরিয়মের পরিবারের সদস্যরা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শোবার ঘরে মরিয়মের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর গলার দুই পাশে আঙুলের স্পষ্ট দাগ ছিল। পরে তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী ফরহাদ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মরিয়মকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমিরুল মণ্ডল বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। রায়ে প্রধান আসামি স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর দুই আসামি শ্বশুর ফজলুর রহমান ও শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/এসএকে