পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. রমজান আলী (৫২) নামে সীতাকুণ্ডের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে পাকিস্তানে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন তিনি। তবে কী কারণে বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পরিবার সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
নিহত রমজান আলী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নড়ালিয়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামানের বাড়ির মৃত আবুল খায়ের ও নুরজাহান বেগমের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে পাকিস্তানে যান রমজান। সেখানে একটি টেক্সটাইল মিলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন তিনি। তবে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না।
নিহতের বোন মিলি আক্তার জানান, বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় মাঝে মাঝে ফোনে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন রমজান। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গত প্রায় আট বছর ধরে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না।
সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন রমজান। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদনও করেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। পরে তাঁর ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি সীতাকুণ্ড থানায় পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) তাঁর গ্রামের বাড়িতে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়। বর্তমানে তাঁর এক ভাই ও দুই বোন গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই দেশে ফেরার কথা ছিল রমজানের। দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর বোনেরা এরই মধ্যে পাত্রী খোঁজার কাজ শুরু করেছিলেন।
মিলি আক্তার বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে ফিরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন—এমন ইচ্ছার কথা ফোনে জানিয়েছিলেন রমজান। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তাঁর সেই স্বপ্ন থেমে গেল।
বর্তমানে রমজান আলীর মরদেহ দেশে এনে মা-বাবার কবরের পাশে দাফনের চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্যরা। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁর বোন মিলি আক্তার।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ডিএসবি শাখার এসআই মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দূতাবাস থেকে পাকিস্তানে বসবাসরত রমজান আলী নামের এক ব্যক্তির তথ্য চেয়েছিল। আমি চার-পাঁচ মাস আগে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ওই ব্যক্তির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলাম।’
সময়ের আলো/এসএকে