সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতা, গালিগালাজের পাশাপাশি এবার প্রবাসী বাংলাদেশিকে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা চড় মেরেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
পর্তুগাল থেকে দেশে ফিরে মঙ্গলবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা নিতে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে যান জকিগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী। তার অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত সেবা না দিয়ে খোদ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন তাকে চড় মারেন। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে অফিসে উপস্থিত সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি একটি দফতরে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তার দাবি, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত লাঞ্ছনার নয়, সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এ অফিসে সেবা নিতে এসে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন তারা। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, একাধিকবার অফিসে আসা এবং কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ গালিগালাজের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।
মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন এটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তবে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে একজন নাগরিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগকে শুধু ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের ভোটার নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের, সেই অফিসেই যদি সেবাপ্রত্যাশীরা হয়রানি ও অপমানের শিকার হন, তাহলে সরকারি সেবার মান ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/মহু