র‍্যাব থেকে এসআরবি : আয়নাঘর ও বন্দিশালার দুঃস্বপ্ন

শহীদুল্লাহ ফরায়জী

মতামত

এসআরবির প্রস্তাবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ একটি নতুন জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। ৬ সদস্যের এই কমিটিতে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১০ বছরের

2026-09-05T04:54:08+00:00
2026-09-05T04:54:08+00:00
 
  শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
র‍্যাব থেকে এসআরবি : আয়নাঘর ও বন্দিশালার দুঃস্বপ্ন
শহীদুল্লাহ ফরায়জী
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
এসআরবির প্রস্তাবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ একটি নতুন জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। ৬ সদস্যের এই কমিটিতে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। কমিটি অভিযোগ অনুসন্ধান করতে পারবে এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু এখানেই স্বাধীনতার প্রশ্নটি গুরুতরভাবে সামনে আসে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। প্রশ্নটি তাই শুধু একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তনের নয়। প্রশ্ন হলো— এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন কতটা মৌলিক এবং র‌্যাবের ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকারের কতটা এসআরবির মধ্যে বহাল থাকছে?

Advertisement
র‌্যাব গঠিত হয়েছিল বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলে র‌্যাবের বিলুপ্তি ও নতুন কোনো বাহিনী গঠনের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা, নাগরিক অধিকার এবং আইনের শাসনের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা আর একটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা এক বিষয় নয়। প্রকৃত সংস্কারের প্রশ্ন হলো— ক্ষমতার উৎস কী, ক্ষমতার সীমা কোথায়, সেই ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ কে করবে, জবাবদিহির ব্যবস্থা কী, মানবাধিকারের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক কীভাবে পুনর্নির্ধারণ হবে।

এসআরবির প্রস্তাবে কিছু নতুন জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার কথা রয়েছে। বিশেষ করে সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনের জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই ব্যবস্থা কতটা স্বাধীন, এর সুপারিশ কতটা কার্যকর ও বাধ্যতামূলক এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে এর বাইরে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ কতটা থাকবে?

র‌্যাব থেকে এসআরবি : পরিবর্তনের পাশাপাশি ধারাবাহিকতা
প্রস্তাবিত কাঠামো বিশ্লেষণ করলে পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতাও দেখা যায়। র‌্যাবের বিদ্যমান জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ, অর্থ, নথিপত্র, মামলা ও অন্য প্রাতিষ্ঠানিক উপাদান এসআরবির মধ্যে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। র‌্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসআরবির সদস্য হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থাও রয়েছে। অর্থাৎ আইনগতভাবে র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও তার গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার নতুন বাহিনীর মধ্যে বহাল থাকছে।
এসআরবিকে অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা এবং জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলা জরুরি— অতীতের আয়নাঘর ও বন্দিশালার যে দুঃস্বপ্ন থেকে জনগণ মুক্তি চেয়েছিল, এসআরবির প্রস্তাবিত হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের বিধান সেই দুঃস্বপ্নকে নতুন করে জনগণের সামনে ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করছে। 

যে রাষ্ট্র একসময় গোপন আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের অভিযোগে নাগরিকের নিরাপত্তার পরিবর্তে ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিল, সেই একই ধরনের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নতুন নামে পুনর্গঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে— আমরা কি সত্যিই সেই অতীত থেকে বেরিয়ে আসছি, নাকি পুরোনো বন্দিশালারই নতুন প্রত্যাবর্তন ঘটছে? র‌্যাবের অতীতের আয়না ঘর ও বন্দিশালার অভিজ্ঞতা তাই নিছক অতীতের কোনো অধ্যায় নয়; এটি এসআরবির নতুন কাঠামো মূল্যায়নের একটি সতর্কবার্তা। নতুন নামে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান জনগণ চায় না, যার ক্ষমতার ভেতর আবারও সেই পুরোনো দুঃস্বপ্ন ফিরে আসার সুযোগ থাকে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন : প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার
এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে— যদি র‌্যাবের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নতুন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও অব্যাহত থাকে, তা হলে পুরোনো প্রতিষ্ঠানটিকে বিলুপ্ত করার প্রয়োজন হলো কেন?
 
অবশ্যই কোনো প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করা প্রশাসনিক বা আইনগত পুনর্গঠনের অংশ হতে পারে। কিন্তু সেটিই যদি সংস্কারের প্রধান বিষয় হয়, তা হলে প্রশ্ন থেকে যায়— রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতার প্রকৃতি, সীমা ও ব্যবহারের সংস্কৃতিতে কী মৌলিক পরিবর্তন আনা হলো?

কারণ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করলেই তার ক্ষমতার চরিত্র পরিবর্তিত হয় না। আবার জনবল ও সম্পদের ধারাবাহিকতা থাকলেই নতুন প্রতিষ্ঠানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো প্রতিষ্ঠানের সমার্থকও বলা যায় না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো— পুরোনো ক্ষমতার সঙ্গে নতুন কী সীমা, নতুন কী নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন কী জবাবদিহি যুক্ত হলো?

যদি র‌্যাবের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসআরবিতে বহাল থাকে, তা হলে সেই ক্ষমতার ওপর নতুন সাংবিধানিক, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ কোথায়? অতীতে যে ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেই ক্ষমতার ব্যবহারে এবার কী নতুন সুরক্ষা যুক্ত হচ্ছে?

আইনগতভাবে র‌্যাব বিলুপ্ত হতে পারে; কিন্তু তার জনবল, সম্পদ, নথি, মামলা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা যদি নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হয়, তা হলে প্রশ্নটি শুধু নামের নয়— রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতার প্রকৃত রূপান্তর ঘটছে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

জবাবদিহি : নতুন ব্যবস্থা কি যথেষ্ট?
এসআরবির প্রস্তাবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ একটি নতুন জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। ৬ সদস্যের এই কমিটিতে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। কমিটি অভিযোগ অনুসন্ধান করতে পারবে এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে।

কিন্তু এখানেই স্বাধীনতার প্রশ্নটি গুরুতরভাবে সামনে আসে। ৬ সদস্যের মধ্যে মানবাধিকার-অভিজ্ঞ ব্যক্তি একজন মাত্র; অন্যরা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। ফলে যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই কাঠামোর প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যে একজন মানবাধিকারকর্মী কতটা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন এবং তার মতামত কতটা প্রভাব ফেলবে— সেটিই বড় প্রশ্ন। তার ওপর কমিটির ক্ষমতা অনুসন্ধান ও সুপারিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ; চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তার হাতে নেই। তা হলে এই কমিটি কি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন জবাবদিহির ব্যবস্থা, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির একটি অভ্যন্তরীণ কাঠামো মাত্র?

মানবাধিকারকর্মীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু উপস্থিতি আর স্বাধীন তদারকি এক বিষয় নয়। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার শুধু অভিযোগ গ্রহণের ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে অভিযোগ তদন্তের স্বাধীনতা, তদন্তের স্বচ্ছতা, সুপারিশ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা এবং ভুক্তভোগীর প্রতিকারের নিশ্চয়তার ওপর।

জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক : এখানেই সবচেয়ে বড় সতর্কতা
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধ তদন্ত ও গ্রেফতারের ক্ষমতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে গ্রেফতার, আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়, তখন অপব্যবহার রোধে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় ‘আয়নাঘর’, গুম ও গোপন আটকের অভিযোগ আমাদের একটি কঠিন শিক্ষা দিয়েছে— রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নামে ব্যবহৃত ক্ষমতার ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে সেই ক্ষমতা নাগরিকের নিরাপত্তার পরিবর্তে নাগরিকের ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাই এসআরবির হাজতখানা বা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ নিয়ে প্রশ্নটি স্থাপনা থাকবে কি থাকবে না— এখানে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্ন হলো— সেখানে কে আটক থাকবে, কতক্ষণ থাকবে, কোথায় ও কীভাবে তার তথ্য সংরক্ষিত হবে, পরিবার ও আইনজীবী কীভাবে জানতে পারবেন, চিকিৎসার সুযোগ কী থাকবে, জিজ্ঞাসাবাদ কীভাবে নথিবদ্ধ হবে এবং কোনো অভিযোগ উঠলে তদন্ত করবে কে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যত স্পষ্ট হবে, এসআরবির ওপর মানুষের আস্থাও তত বেশি তৈরি হবে।

রাষ্ট্রের ক্ষমতা বনাম নাগরিকের অধিকার
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তি তার দমনক্ষমতার মধ্যে নয় বরং সেই ক্ষমতাকে আইনের সীমার মধ্যে রাখার সক্ষমতার মধ্যে। বিশেষায়িত বাহিনী অপরাধ দমন করতে পারে, সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে পারে, সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। কিন্তু বিশেষায়িত ক্ষমতার সঙ্গে বিশেষায়িত জবাবদিহিও থাকতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের হাতে যতবেশি জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা থাকবে, সেই ক্ষমতার ওপর ততবেশি আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এখানে শুধু বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর সংসদীয় নজরদারি, বিচারিক সুরক্ষা, স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিকার।
 
র‌্যাবের অভিজ্ঞতা থেকে এসআরবির শিক্ষা
র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোকে কেবল একটি পুরোনো বাহিনীর অতীত হিসেবে দেখলে চলবে না। নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের সময় সেই অভিজ্ঞতাই হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ সংস্কারের ভিত্তি। প্রশ্ন হওয়া উচিত— কোন ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল? কেন হয়েছিল? কেন নিয়ন্ত্রণ কার্যকর ছিল না? কোথায় জবাবদিহির ঘাটতি ছিল? এবং এসআরবির আইনি কাঠামোতে সেই দুর্বলতাগুলো কীভাবে দূর করা হচ্ছে?

সংস্কারের সাফল্য তাই নতুন নাম, নতুন পোশাক বা নতুন সাংগঠনিক কাঠামো দিয়ে বিচার করা যাবে না। বিচার করতে হবে ক্ষমতার সীমা কতটা স্পষ্ট হয়েছে, জবাবদিহি কতটা স্বাধীন হয়েছে, মানবাধিকার কতটা সুরক্ষিত হয়েছে এবং নাগরিকের ওপর রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা কতটা আইনের অধীন হয়েছে। র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন তখনই প্রকৃত সংস্কার হবে, যখন এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও কাঠামো বদলাবে না, রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতার দর্শন, সীমা, ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির মৌলিক পুনর্গঠন ঘটাবে। 

অন্যথায় র‌্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যদি নতুন নামে বহাল থাকে, তা হলে বিলুপ্ত হয়েছে শুধু প্রতিষ্ঠানটির নাম; বিলুপ্ত হয়নি তার ক্ষমতার কাঠামো। নতুন নাম দিয়ে পুরোনো ক্ষমতার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা কোনো সংস্কার নয়— এটি সংস্কারের নামে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা।

কিন্তু পুরোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বিলুপ্ত করাই যদি সংস্কারের প্রধান প্রমাণ হয় অথচ তার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা, জনবল, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নতুন প্রতিষ্ঠানে বহাল থাকে, তা হলে রাষ্ট্রের প্রকৃত রূপান্তর কোথায় ঘটল— সেই প্রশ্নের উত্তর জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা দিতে হবে।

নতুন নাম দিয়ে পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো ও ক্ষমতার সংস্কৃতি বহাল রাখা কোনো প্রকৃত সংস্কার নয়; সেটি কেবল প্রতিষ্ঠানের রূপান্তর, ক্ষমতার নয়। র‌্যাবের নাম বদলানো সহজ; র‌্যাবের ক্ষমতার সংস্কৃতি বদলানোই আসল পরীক্ষা।

লেখক : গীতিকবি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   র‍্যাব  এসআরবি  আয়নাঘর  বন্দিশালা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: