দেশের অন্যতম পর্যটন শহর দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশন। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা আসেন এ শহরে। শহরের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো তাদের মুগ্ধ করলেও শহরে প্রবেশের আগেই মিলছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। চরফ্যাশন-ভোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় যেন পর্যটক ও পথচারীদের জন্য ‘দুর্গন্ধের স্বাগত’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌরসভার প্রবেশমুখে দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে শহরের বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা। পচা ময়লার উৎকট দুর্গন্ধে নাকাল হচ্ছেন পথচারী, পরিবহন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশুরা এ পথ দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধে বিরক্ত হয়ে নাক চেপে ধরছে। এতে অভিভাবকরাও পড়ছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।
চরফ্যাশন পৌরসভা ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০০৩ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো গড়ে ওঠেনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের পাশের ওই স্থানটিকেই ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন সময় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি উঠলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। শুধু পচা ময়লার দুর্গন্ধই নয়, অনেক সময় ওই ময়লার স্তূপে আগুন দেওয়ায় চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে তারা চুলকানি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় পড়ছেন। জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লা ফেলা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ময়লার ভাগাড়টির পাশেই রয়েছে চরফ্যাশনের অত্যাধুনিক যাত্রী বাস টার্মিনাল। দূর-দূরান্ত থেকে বাসে করে আসা যাত্রীরা টার্মিনালে নামা-ওঠার সময়ই পড়েন উৎকট দুর্গন্ধের কবলে। ফলে পর্যটন শহরে প্রবেশের মুখেই শহরের পরিবেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
শিক্ষক নুরুল কবির প্রতিদিন তার শিশুশ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে নিয়ে এ পথে বাসে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, বাচ্চা প্রতিদিন ময়লার ভাগাড়ের কাছে এলেই বলে— বাবা, নাক ধর, গন্ধ। পরে প্রশ্ন করে, বাবা এখানে এত গন্ধ কেন?
তিনি আরও বলেন, ময়লা-আবর্জনার কারণে রাস্তার পাশের পরিবেশের অবস্থা বেগতিক। শিশুর আবদার থাকলেও বিকল্প পথে যাতায়াতের সুযোগ নেই। বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা আল এমরান নোমান নিয়মিত বিভিন্নজনকে সঙ্গে নিয়ে চরফ্যাশনে বেড়াতে আসেন।
তিনি বলেন, চরফ্যাশনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো দেখে সবাই অভিভূত হন, প্রশংসা করেন। কিন্তু পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ের বিষয়টি যখন তাদের নজরে আসে, তখন নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগে।
চরফ্যাশন পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, আমরা ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে আমরা ডাম্পিং স্টেশন করতে পারব। আশা করি সরকার এ বিষয়ে দ্রুত নজর দেবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগের অবসান হবে। একই সঙ্গে পর্যটন শহরের প্রবেশমুখ থেকে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে পৌর কর্তৃপক্ষ।
চরফ্যাশন-ভোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। পাশেই অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল; পচা ময়লার দুর্গন্ধে দুর্ভোগে পথচারী ও যাত্রীরা।
সময়ের আলো/আতা