শিশুদের পেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাচারে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে র্যাব-৭। জড়িত থাকার দায়ে শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৯ ও ১২ বছর বয়সি দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেই দুই শিশুর পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা বের করেছে র্যাব।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র্যাব-৭ এর নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্প মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং এই তথ্য দেন র্যাব-৭ এর সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম। গ্রেফতার শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা (৪০), কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার পূর্ব ডোমখালী এলাকার মো. আহমদ হোসেনের মেয়ে।
কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইয়াবার চালান নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসার খবর আসে র্যাবের কাছে। এরপর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আনোয়ারার তৈলার দ্বীপ সেতু সংলগ্ন গরুর বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় র্যাব।
এ সময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে যাত্রী আসনে থাকা শারমিন আকতারকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ৯ ও ১২ বছর বয়সি দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন স্বীকার করেন, শিশু দুটির পেটের ভেতর ইয়াবা রয়েছে। পরে ৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে একটার দিকে শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তাদের পেটের ভেতর ইয়াবা সদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়।
এরপর চিকিৎসার এক পর্যায়ে ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মলত্যাগের মাধ্যমে ৯ বছর বয়সি শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সি শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট বের করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন দাবি করেন, তিনি উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে শিশু দুটিকে কৌশলে খাইয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একই কৌশলে শিশু দুটির পেটে করে আরও দুইবার উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিয়েছেন।
সময়ের আলো/আতা