বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনে কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ৭৯৮ নিম্নগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। সোমবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে সান্তাহার শহরের রেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রেনের একেবারে পিছনের মালবাহী কামরাটি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের ওপর গিয়ে পড়ার কারণে সান্তাহার স্টেশন থেকে সকল প্রকার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যা ৭টার পর সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে কোন ট্রেন ছেড়ে যেতে পারে নি। সান্তাহার স্টেশনে রাজশাহী থেকে পার্বতীপুর গামী আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন এবং, আক্কেলপুর স্টেশনে রাজশাহীগামী তিতুমীর আন্তঃনগর ট্রেনটি আটকা পড়ে আছে।
সান্তাহার স্টেশনের সুইচ কেবিন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকাগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ সান্তাহার জংশন স্টেশনে প্রবেশের সময় স্টেশনের রেলগেট এলাকায় ট্রেনের পিছনে থাকা একটি মালবাহী কামরা লাইনচ্যুত হয়।
সুইচ কেবিনে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার আবু হানিফ জানান, মালবাহী কামরাটি লাইন থেকে ছিটকে পড়ার কারণে সকল লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, সিগন্যালের কোন ধরনের ত্রুটি ছিল না, ধারণা করা হচ্ছে ট্রেনের কোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ার কারণে ওই ট্রেনে থাকা কয়েকশ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
মিন্টু হোসেন নামের এক ট্রেন যাত্রী বলেন, তিনি রোগী নিয়ে সান্তাহার থেকে ঢাকায় যাচ্ছেন, কাল সকালে ওই রোগী চিকিৎসককে দেখানোর কথা রয়েছে। ট্রেন আটকে পড়ায় তিনি চরম বিপদে পড়েছেন।
একই ট্রেনে যাত্রী নাসিমা বেগম বলেন, তিনি কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেনে উঠেছেন, একে তো সাত ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি চলাচল করছে তার ওপর আবার এই দুর্ঘটনা। কখন ঢাকায় যেতে পারবো তা জানি না।
সান্তাহার স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) শ্যামল চন্দ্র জানান, লাইনচ্যুত কামরাটি উদ্ধারের জন্য ক্যারেজ বিভাগের লোকজন কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধার করা ট্রেনটি আসার পর পুরোদমে উদ্ধার কাজ শুরু হবে। এদিকে সান্তাহার শহরের একমাত্র রেলক্রসিংয়ের ওপর ট্রেন আটকে থাকায় শহরের এ পাশ থেকে অপর পাশে যাতায়াতকারী সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে শহরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধারকারী ট্রেন কখন সান্তাহারে আসবে তা জানার জন্য একাধিকবার স্টেশন মাস্টার খাদিজা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সময়ের আলো/আতা