রাজধানীর শ্যামপুরে ১৬ বছর বয়সী নববধূ আফরা খানের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তার স্বামী রাহাত হোসেনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাহাতকে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার এসআই ইমাম হোসেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম জামিনের আবেদন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী আকতার হোসেন সোহেল বলেন, আফরার বয়স ১৮ বছর না হলেও রাহাত তাকে ফুসলিয়ে এবং তার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আফরার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয় এবং তাকে নির্যাতন করা হয়।
অন্যদিকে রাহাতের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নজরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চান। তিনি বলেন, আফরা ও রাহাত পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এজাহারেও নেই। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে বিচার চান বলেও তিনি আদালতকে জানান।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আফরার মা লাকী আক্তার। তিনি বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় প্রথমে বিয়েতে পরিবারের সম্মতি ছিল না। তবে আফরা ও রাহাতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাহাত তার মাকে নিয়ে অন্তত ১০ বার তাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা বিয়ে দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে পারিবারিকভাবে রাহাত ও আফরার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাহাত আফরাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর, ভয়ভীতি দেখানো এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট আফরার মৃত্যুর ঘটনায় তার মা লাকী আক্তার শ্যামপুর থানায় রাহাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী এবং বড় ভাই সাইফ হোসেন। মামলার পরদিন, ২১ আগস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লট এলাকার নিজ বাসা থেকে রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সময়ের আলো/এসএকে