আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পিরিছপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ মেঝে ভেঙে শিক্ষক-শিক্ষার্থী গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন। সোমবার এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবন হস্তান্তরের মাত্র চার বছরের মাথায় মেঝে ধসে পড়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে চতুর্থ শ্রেণির গণিতের ক্লাস চলছিল। এ সময় এক শিক্ষার্থী ফ্লোরে ফাটল দেখতে পেয়ে শিক্ষককে বিষয়টি জানায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ফ্লোরের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন গর্তের মধ্যে পড়ে আহত হন।
ইউপি সদস্য ময়না মিয়া বলেন, ঠিকাদার প্রায় এক ইঞ্চি পুরু করে ফ্লোরের ঢালাই দিয়েছেন। ফ্লোরের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে একটি কর্নারের মেঝে ধসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যালয় ঘেঁষে সেচের পানির একটি ড্রেন রয়েছে। সেখানকার পানির কারণে মাটি সরে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া প্রতিটি ক্লাসরুমের নিচের মাটিও সরে গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদার অভিরাম দাস বলেন, স্কুলটি ব্রিটিশ আমলে করা হয়েছে। সেখানে আলাদা মাটি দিয়ে ফিলিং করা হয়েছিল। ওই মাটি সরে গেলে ফ্লোর ধসতেই পারে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুমা আক্তার বলেন, চতুর্থ শ্রেণির গণিতের ক্লাস চলছিল। এ সময় এক শিক্ষার্থী ফ্লোরে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ফ্লোরটি ভেঙে যায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই গর্তের মধ্যে পড়ে গিয়ে আহত হই।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষিকা রুমা আক্তার এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রহিম বাদশা, আব্দুল মান্নান, মোজাক্কির ও আজিনুরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সবুতর নেছা বলেন, নিম্নমানের ঢালাইয়ের কারণে ফ্লোর ধসের ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সারং মিয়া বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে এসে ঘটনাটি দেখি। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কান্নার রোল পড়ে যায়। তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলা এলজিইডির বাস্তবায়নে বিদ্যালয় ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শেষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটি বুঝে নেয়। বিদ্যালয় ভবনটি পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট। এর মধ্যে চারটি শ্রেণিকক্ষ এবং একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। ভবনটি দুইতলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন হস্তান্তরের মাত্র চার বছরের মাথায় শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর ভেঙে পড়ায় ভবনের নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের নিচের মাটি সরে যাওয়ার তথ্য পাওয়ায় ভবনটির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পুরো ভবন পরীক্ষা করে ফ্লোর ধসের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি