প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ১০:০৪ পিএম
গ্রেফতার ব্যক্তিরা। ছবি : সময়ের আলো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় তিন অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সাদেক আলী (২৮), কামরুল হাসান (৪৩) এবং মো. হানিফ (৩৪)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিরসরাই এলাকা থেকে সাদেককে, চাঁদপুর এলাকা থেকে কামরুলকে এবং সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে হানিফকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজত থেকে ১টি দেশীয় তৈরি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, ৩টি কিরিচ, ১টি দা এবং ১৫টি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুরের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন যুবককে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে ওই অস্ত্রধারীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরেই সীতাকুণ্ড থানা পুলিশসহ একাধিক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে অস্ত্রধারীদের শনাক্তে অনুসন্ধানে নামে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, সাদেকের কাছ থেকে উদ্ধার বন্দুকটি ছাড়াও সংঘর্ষের দিন ছড়িয়ে পড়া ছবিতে অভিযুক্তদের হাতে অন্য অস্ত্র (যেমন-শুটার গান ও পিস্তল) দেখা গিয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনে হচ্ছে আসামিরা ঘটনার সময় ব্যবহৃত মূল অস্ত্রগুলো হাতবদল করেছে। ঘটনার সময় দৃশ্যমান অস্ত্রের মধ্যে পিস্তল ও শুটার গান উদ্ধারে এবং অস্ত্র প্রদর্শনে জড়িত সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেফতার হানিফকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানান, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কিংবা সহিংসতায় জড়িত কোনো অপরাধীকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে রাজনৈতিক পরিচয়ই ব্যবহার করুক না কেন—আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে পুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন